আমি হিংস্র,
আমি পিশাচ,
আমি উন্মাদ,
আমি উলঙ্গ—
তবু বলবে কে?
কার ঘাড়ে কটা মাথা আছে,
সে হিসেব কে রাখে?
আমি মিথ্যাবাদী,
আমি প্রতারক,
আমি খচ্চর,
আমি ভণ্ড—
তবু বলবে কে?
এই সমাজে সত্য বলার
ঝুঁকি কে নেবে?
কাকা, আমাকে একটু দেখুন—
ও দিদি, রাত করে বাড়ি ফেরেন,
আমরাই তো প্রোটেকশন দিই!
মাসি, মা-কে বলে দেবেন,
রং যেন মনে রাখে—
সব রং নয়,
শুধু সুবিধের রং।
দেখুন মেসোমশাই,
এবার কিন্তু এধার-ওধার করলে
ভালো হবে না।
মেয়েটা তো প্রতিদিন
ট্রেনে করে কলেজে যায়—
সহজ পথ,
তাই না?
আমি স্বেচ্ছাসেবী,
আমি সমাজসেবী,
আমি দান করি,
আমি জনদরদি মানুষ।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁদি,
ক্যামেরার সামনে নুইয়ে পড়ি।
আমার গলায় নৈতিকতার তাবিজ,
হাতে পরিচয়ের সার্টিফিকেট,
মুখে মধু,
পকেটে হিসেব।
আমি মুখোশ পরেই বলি—
“জীবে প্রেম করে যেই জন,
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”
আর ঈশ্বর?
তিনি নীরব।
কারণ তিনি জানেন—
এই দেশে
সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ
মুখোশ খোলা নয়,
মুখোশ চিনে ফেলা।

