প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৯ মার্চ : নির্বাচন কমিশন যাঁকে ’সন্দেহভাজন’ ভোটার ধরার দায়িত্ব দিয়েছিলো তাঁরই নাম বাদ চলে গেছে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। এমনকি এখনো দিব্যি বেঁচে আছেন, এমন অনেকের নামও চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে।কমিশনের এমন কীর্তিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার অনেকেই চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। তা নিয়ে তৃণমূল কমিশনের বিরোধীতায় সুর চড়ালেও তাতে স্বস্তি ফেরেনি নাম ’ডিলিট’ হয়ে যাওয়া ওই সকল ভোটারদের। তাঁরা তাঁদের আগামী ভবিষ্যৎতের কথা ভেবে এখন শুধুই উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
বঙ্গে এসআইআর (SIR) লাগু হওয়ার পর পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বৈদ্যডাঙার বাসিন্দা রজত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন । রজতবাবু বর্তমানে ভারতীয় জীবনবিমা কর্পোরেশনের (LIC) মালদা ডিভিশনে ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে কর্মরত। কমিশনের নির্দেশে তিনি উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সন্দেহভাজন ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হল এসআইআর পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই ভোটার তালিকার ‘ডিলিটেড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মেমারি বিধানসভার ১২৮ নম্বর বুথের ৩৪৩ ক্রমিক নম্বরে থাকা তাঁর নাম ও ছবির উপর ‘ডিলিটেড’ শব্দ লেখা রয়েছে ।
এমনটা হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে রজতবাবু বলেন,’আমার বয়স যখন মাত্র ছয় মাস তখন আমি আমার মাকে হারাই। আমি বড় হয়েছি মামার বাড়িতে । এনুমারেশন ফর্মে উত্তরাধিকার ভোটার হিসাবে আমি আমার দিদিমার নাম উল্লেখ করে ছিলাম।কিন্তু আমার বয়সের সঙ্গে আমার দিদিমার বয়সের ব্যবধান ৩৮ বছর হওয়ায় কমিশন আমায় শুনানিতে ডেকেছিল। শুনানির সময় আমি আমার পাসপোর্ট, কেন্দ্রীয় বিমা সংস্থার পরিচয়পত্র,সবই জমা দিয়ে ছিলাম। এমনকি অনলাইনেও আমি আমার নিজের পাসপোর্ট আপলোড করেছিলাম।তার পরেও আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল।“
নাম বাদ যাওয়ায় রজত বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,কমিশন আমাকে ’সন্দেহজনক ভোটারের’ তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই কাজের পুরস্কার স্বরুপ আমার নামটাই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হল। এর প্রভাব শুধু আমার জীবনেই নয়, আমার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের উপরেও পড়বে বলে রজতবাবু মন্তব্য করেন।
জানা গিয়েছে ,রজত বাবুর মতোই পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৭,৯৮৪ জন ভোটারের নাম সদ্য প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিক থেকে বাদ পড়েছে। এ ছাড়াও বিচারাধীন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে জেলার ৩,৫৩,৬০৮ জন ভোটারের নাম। নাম বাদের তালিকায় জেলায় শীর্ষে রয়েছে মেমারি বিধানসভা এলাকা ।এসবের মধ্যেই কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মাইক্রো অবজ়ার্ভারের নাম চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনা প্রশাসনিক মহলেও বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে ।
একই ভাবে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কাটোয়াতেও ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। কাটোয়া বিধানসভার ২৫৩ নম্বর বুথের গাঁফুলিয়ায় পাঁচজন ‘জীবিত’ ভোটারের নাম চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দীপিকা মাঝি,ভগবতী মাঝি, শিখা মাঝি ও দুর্যোধন মাঝি জানান,তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে কাটোয়ায় বসবাস করছেন।তবু তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি তাঁরা জমা করেছিলেন। তার পরেও চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে কেন তাঁদের নাম বাদ গেল তার কিছুই বুজে উঠতে পারছেন না। দীপিকা মাঝি ও ভগবতী মাঝি বলেন,’আমরা তো বেচেঁ আছি।তার পরেও নাম ’ডিলিট’ করে দেওয়ার হলো !’ সরকারি সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই এই পরিবার গুলি এখন দিন কাটাচ্ছে। জেলা তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন,এসবের প্রতিবাদেই তো আমাদের দলনেত্রী কলকাতায় ধর্ণায় বসেছেন।।
