এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,১৭ জানুয়ারী : ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা । রেল ও সড়কপথ অবরোধের পাশাপাশি খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া বাংলার দুই নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিকদের উপর হামলা পর্যন্ত হয়েছে। তার মধ্যে একজন মহিলা সাংবাদিক ও একজন ক্যামেরাম্যান গুরুতর আহত হন । গতকাল শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বেলডাঙার এই হিংসার বিষয়ে সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি নাম না করে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেন । পাশাপাশি হামলাকারীদের পক্ষ সমর্থনে তিনি কিছু যুক্তিও দিয়েছেন । যা ঘিরে রাজ্যে বিতর্ক চলছে । এদিকে শুক্রবার বেলডাঙার হিংসার ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার পালটা অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন ।
গতকাল মমতা ব্যানার্জি শিলিগুড়িতে বলেছিলেন, ‘দেখুন,বেলডাঙ্গায় আপনারা জানেন কাদের কাদের প্ররোচনা আছে৷ আমি আর নতুন করে বলতে চাই না। ফ্রাইডে জুম্মাবার,পবিত্র বার,শিবেরও বার, মা দুর্গারও বার, সন্তোষী মাতারও বার৷ তেমনি ফ্রাইডে জুম্মার নামাজও হয়৷ এখন যদি দুর্গাপূজা দেখতে এসেছে কোটি কোটি লোক,সেখানে আপনি যদি একটা মাইক লাগিয়ে দেন তাহলে সবাই শুনবে । ফ্রাইডে জুম্মাবারে সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট আছে৷ সেখানে সবাই ফ্রাইডে জুম্মার নামাজ করতে এসেছে । এখানে কেউ কেউ যদি তার রাজনৈতিক চরিতার্থ করার জন্য উসকে দেয়, সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক । আমিও ওর জন্য ক্ষুব্ধ । তাদের একতরফা বাদ দিতে পারে না । যেটা দিয়েছে ।”
এদিকে আজ নিজের ফেসবুক পেজে হুমায়ুন কবির পালটা লিখেছেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ এবং তাঁর সরকার যে চক্রান্তের জাল বুনছে, বেলডাঙ্গার মানুষ অজান্তেই তাতে পা দিচ্ছেন। মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তৃণমূল দিনের পর দিন নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, কিন্তু বিনিময়ে মুর্শিদাবাদের মানুষ সেই প্রান্তিক আর পরিযায়ী শ্রমিকই রয়ে গেছেন। পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে গিয়ে আমাদের ভাইয়েরা মার খাচ্ছেন, কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেন—এই ক্ষোভ, এই আবেগ খুবই স্বাভাবিক।’
তিনি আরও লিখেছেন,’কিন্তু আমি হুমায়ুন কবীর, বেলডাঙ্গার মানুষের কাছে করজোড়ে আবেদন করছি—আপনারা এই প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমি আগেও আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়েই চাইছে এই ঘটনাকে জাতীয় স্তরের ইস্যুতে পরিণত করতে, যাতে ভোটের মেরুকরণ (Polarization) করে ওরা ফায়দা লুটতে পারে। আপনারা ধৈর্য ধরুন। প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি অন্যায়ের কড়ায়-গণ্ডায় জবাব আমরা দেবই।’।


