প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৪ জানুয়ারী : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ও সাধের প্রকল্পগুলির মধ্যে “পথসাথী মোটেল” হলো অন্যতম। অথচ সেই ’পথসাথী মোটেল’ অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের “থানায়’ রুপান্তরিত হয়ে গেল ।রাজ্য পুলিশের ডি,জি রাজীব কুমার শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই থানার উদ্বোধন করেন।জেলার পুলিশ সুপার সহ অন্যান উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তারাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।তা নিয়েই এখন জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে।’পথসাথী মোটেলের’এই ভাবে থানায় রুপন্তরিত হয়ে যাওয়ার ঘটনা উস্কে দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়া ’তুঘলকী সিদ্ধান্তের“ ফল বলে কটাক্ষে বেঁধা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতারা।
দূরপাল্লার যাত্রী,বিশেষ করে নারীরা যাতে,রাজ্য ও জাতীয় সড়কের ধারে সুলভ মূল্যে খাবার ,নিরাপদ বিশ্রাম,রাত্রিযাপন ও পরিষ্কার শৌচাগার পায় ,সেই উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যার “পথসাসী মোটেল’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো শক্তিগড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের ও স্বপ্নের প্রকল্প “পথসাসী মোটেল” তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পূর্ত ও আবাসন দপ্তরের উদ্যোগে এবং তৎকালীন বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বিডিও কমলিকা ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে শক্তিগড়ের ‘পথসাথী মোটেল“ চালু হয়। জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের সুবিধার্থে তৈরি মোটেলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের । অল্প সময়ের মধ্যেই খাবারের সুনামের জেরে মোটেলটি জনপ্রিয়তা পায়। তার কারণে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যবসাও বেশ রমরমিয়ে চলছিল।
কিন্তু ’কোভিড’ পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ে মোটেলটি। নানা সমস্যার কারণে মোটেলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে।পর মোটেলটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।এক পর্যায় পর্যটন দপ্তর দায়িত্ব নেয় ঠিকই,কিন্তু তাতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়না। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে শক্তিগড়ের পথসাথী মোটেলটিকে শক্তিগড় থানায় রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই বিষয়ে ডিজি রাজীব কুমার কিছু বলতে অস্বীকার করেন। ডিজি উল্টে বলেন, যা বলার সবই বলবে এসপি।আর সায়ন দাসকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ওসব এখন থাক না।
দোর গোড়ায় বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের ও স্বপ্নের পথসাথী মোটেল শেষ।অব্দি থানার রুপান্তরিত হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর । জেলার বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এ নিয়ে বলেন,’এ সবই হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর তুঘলকী সিদ্ধান্তের ফল। অপরিকল্পিতভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ’পথসাথী মোটেল“ তৈরি করা হয়েছিল।উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ায় শেষ অব্দি সেই মোটেলকে রুপান্তরিত করা হল থানায়। শক্তিগড়ে “মিষ্টি হাব’‘, ’পথসাথী মোটেল’ এসব তৈরি,আসলে সরকারী অর্থ নষ্টকরা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মৃত্যূঞ্জয় চন্দ্র দাবি করেছেন।“যদিও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন,পথসাথী মোটেল চালু হওয়ার পর থেকে তা সেভাবে সফলতা হয়নি।পরে সেটিকে পর্যটন দপ্তর অধিগ্রহণ করলেও ভালোভাবে চলেনি। তাই প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেখানে থানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।।
