এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৪ জানুয়ারী : কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির অভিযানের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৷ ইডির হেফাজত থেকে বেশ কিছু পেন ড্রাইভ ও ফাইল “লুট” করার অভিযোগের মধ্যেই তিনি কয়লা পাচার মামলায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের নাম করে এই দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার দাবি করেন । তারই প্রতিক্রিয়ায় মমতার কাছে মানহানীর নোটিশ পাঠিয়েছেন শুভেন্দু । অভিযোগের সপক্ষে প্রমান দাখিল ও মমতার “মানসিক স্বাস্থ্য” জনিত কোনো সমস্যা আছে কিনা জানাতে ৭২ ঘন্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে । উল্লিখিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের কর হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা । কিন্তু নির্ধারিত ৭২ ঘন্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মমতার তরফ থেকে কোনো জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু । পাশাপাশি তিনি মমতাকে সতর্ক করে বলেছেন, “এবারে আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হোন”৷
এই বিষয়ে আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে হয় বুঝে উঠতে পারেননি আমার উকিল সাহেবের মাধ্যমে পাঠানো মানহানি নোটিশের কি জবাব দেবেন ! তাঁকে দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গেছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।’
প্রসঙ্গত,শুভেন্দুর পক্ষে নোটিশটি মমতার কাছে পাঠিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সূর্যনীল দাস । দু’পাতার আইনি নোটিশটি এক্স-এ শেয়ার করেছিলেন শুভেন্দু । নোটিশে বলা হয়েছে, ‘০৮.০১.২০২৬ এবং ০৯.০১.২০২৬ তারিখে, আপনি আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে বেপরোয়া, ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত অভিযোগ করেছেন, প্রকাশ্যে ইঙ্গিত করে যে আমার মক্কেল এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি কথিত কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত। আপনি আরও দাবি করেছেন যে এই ধরনের অভিযোগের সমর্থনে আপনার কাছে প্রমাণ রয়েছে।
আপনি স্পষ্টভাবে আমার মক্কেলের নাম উল্লেখ করেছেন এবং এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সময়, অশ্লীল কটাক্ষ এবং অরুচিকর ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে আমার মক্কেলকে “দত্তক নেওয়া শিশু” হিসাবে উল্লেখ করা এবং অন্যান্য অনুরূপ মন্তব্য। এই ধরনের ভাষা এবং আচরণ একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির জন্য সম্পূর্ণরূপে অশোভন এবং এটি প্রত্যাশিত শালীনতা, মর্যাদা এবং সংযমের মানদণ্ডের অনেক নীচে ।’
আরও লেখা হয়েছে,’আমার মক্কেল আপনাকে অবিলম্বে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে এই নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ (বাহাত্তর) ঘন্টার মধ্যে, আমার মক্কেলকে সমস্ত নথি, উপকরণ এবং কথিত প্রমাণের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রদান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন যা আপনি উপরে বর্ণিত মানহানিকর বিবৃতির সমর্থনে আপনার কাছে আছে বলে দাবি করেছেন। আপনাকে এতদ্বারা সতর্ক করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ধরনের অভিযোগযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থতা, অবহেলা, অথবা অস্বীকৃতির ফলে আমার মক্কেল আপনার বিরুদ্ধে যথাযথ দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা শুরু করতে বাধ্য হবেন, যার মধ্যে প্রযোজ্য আইনের বিধান অনুসারে মানহানির মামলাও অন্তর্ভুক্ত, তবে সীমাবদ্ধ নয়। আমার মক্কেল আরও বলেছেন যে, যদি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে এমন কোনও মানসিক অবস্থার কারণে আপনি উপরোক্ত বিবৃতিগুলি দিয়ে থাকেন, তবে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন । এই ক্ষেত্রে, আমার মক্কেল আইন অনুসারে এবং পরামর্শ অনুসারে উক্ত প্রকাশ বিবেচনা করবেন।’ এখন দেখার বিষয় যে মমতা-শুভেন্দুর এই আইনি লড়াই কতদুর গড়ায় ।।

