এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০৩ এপ্রিল : মালদা জেলার মোথাবাড়িতে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) সংক্রান্ত বিষয়ে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সমাজবিরোধীরা ঘেরাও করার ঘটনায়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৃহস্পতিবার এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছেন। আজ শুক্রবার এনআইএ-র একটি দল পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী ৬ই এপ্রিলের মধ্যে এনআইএ-কে তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।এই রিপোর্টটি পরবর্তীতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের স্পষ্ট বার্তা, “হিংসা কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না ।”
এদিকে এই ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠছে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে । তাকেই ঘটনার ‘মূল উসকানিদাতা’ হিসাবে চিহ্নিত করছেন কেউ কেউ । মোফাক্কেরুল ইসলামের বেশ কিছু ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল । ভিডিওগুলিতে মোফাক্কেরুল ইসলামকে একটি চারচাকা গাড়ির ছাদে চড়ে উত্তেজক ভাষণ দিতে শোনা যাচ্ছে । কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী গোপাল মন্ডল, ২০২১ সালের নির্বাচনের পুর্ব সময়ে এডভোকেট মোফাক্কেরুল ইসলাম সংবাদের শীরোনামে এসেছিলেন এক বিতর্কিত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।।সেই সময়ে ওনার বিতর্কিত বক্তব্যের বিরোধিতা করে আমি এই ভিডিওটা সোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করি। ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনের পুর্বে আবার উনি গতকাল সংবাদের শিরোনামে। SIR নিয়ে প্রতিবাদে ৭ জন বিচারপতিকে ১২ নং জাতীয় সড়কে দীর্ঘ সময়ের জন্যে কার্যত বন্দি করে রাখার অন্যতন নায়ক এই মোফাক্কেরুল ইসলাম।’
শিলিগুড়ির শিক্ষক ও লেখক সুফল সরকার লিখেছেন,’লিখেছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক, প্রাক্তন ভিসি (CBPBU), “এই মাথাটি কালিয়াচক মোথাবাড়ি কাণ্ডের মূল মাথাদের একটি । গতরাতের সেই ভীড়ে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে ইনি এস আই আরের কাজে যুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে জনতাকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলেন । একে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন ?”
লোকটি আসলেই ভীষণ ভীষণ উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন, এর আগেও ওয়াকফ আন্দোলনের নামে বিশ্রী ভাষণ দিয়েছিলেন । একজন উচ্চ শিক্ষিত, হাইকোর্টের উকিল হয়েও কেন সাধারণদের মধ্যে উগ্র ভাষণ দেন । শান্তিপূর্ণ উপায়ে তো আন্দোলন করার অধিকার সংবিধানও দিয়েছে কিন্তু সেটা না করে শুধু গরম গরম বক্তব্য দেওয়াই উঁনার কাজ । শিক্ষিত মানুষ সাধারণত উগ্রতা থামায় কিন্তু উঁনা নিজেই উস্কানিমূলক ভাষণ পরিবেশন করে সাধারণ মুসলিম মানুষদেরকে ক্ষিপ্ত করে তোলেন । এতে কার ক্ষতি হয় ?’
দার্জিলিং-এর ঠিকানার সঙ্গিতা দাস নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন,”তুই কেরালায় যা, আর যে রাজ্যেই ভেগে যাস না কেন, সেখান থেকেই তোকে তুলবে NIA. সরকার পরিবর্তন হোক বা না হোক, মোথাবাড়ির তদন্ত তো চলবে । রেহাই নেই রে তোর জেহাদি । তোদের আম্মারও ক্ষমতা নেই তোকে বাঁচায় ।”
শিক্ষিকা রাখি চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে (লিঙ্ক : https://www.facebook.com/share/ 1NXa FPBmMe/)লিখেছেন, ‘গতকালকের মালদার কালিয়াচকে ১২নং জাতীয় সড়ক অবরোধ ও ৭ জন বিচারককে বন্দী করে রাখার মতো ঘটনা একেবারেই অবাক করেনি, বিশ্বাস করুন। আরোও একটু সংযোজন করি, বিচারকদের উদ্ধার করার সময় হামলার মত নারকীয় ঘটনার আসল মা*স্টার মা*ইন্ড এই Advocate মফেক্কেরুল ইসলাম। বেশ কয়েকটা ভিডিওতে চোখে পড়ল উস্কানিমূলক বক্তব্য।আবার কাল কালিয়াচকের ঘটনা প্রমাণ দিলো, যেখানে পশ্চিমবঙ্গে বিচারকরা সুরক্ষিত নয়, ভোট কর্মীরা সুরক্ষিত নয়, সেখানে গণতন্ত্র অনেকদিন আগেই বিদায় নিয়েছে।এই লোককে পূর্বেও দেখেছি, বিরোধের আড়ালে বিষোদগার আর নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতে। ওয়াকফ বোর্ডের যে বিস্তর আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামসেরগঞ্জ ও সুতি এলাকায় ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, ২ জন হিন্দু মূর্তি কারিগর- হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস মারা যান, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়, ট্রেনে পাথর ছোঁড়া হয় উপর্যুপরি, সেই সময় যথেষ্ট উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সময়ের সিঁড়ি দিয়ে পিছনে ফিরে তাকান, 2001সালে, 25% থেকে হঠাৎ করে আজ প্রায় 33%,আর এই সংখ্যাবৃদ্ধি যদি আজ কালিয়াচকের ঘটনার মূল স্তম্ভ হয়ে থাকে তবে বলা যেতে পারে, সম্পূর্ণ নির্মোক হলে আরেকটা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস্ দেখতে খুব বিলম্ব নেই। যাইহোক, শুধুমাত্র নিন্দার বাণী এই ঘটনাগুলোকে প্রশমিত করতে সক্ষম নয়। উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে, আইনের শাসন নামক কথাটা একটা প্রহসন হয়ে থাকবে। আপহোল্ডিং ল এন্ড অর্ডার কথাটা লোকহাসানো শব্দবন্ধ।আর, সমাজবিজ্ঞান নিয়ে লম্ফঝম্প করা, প্রোলেতারিয়েতস্ এর বাণী শোনানো বিশ্বআঁতেল গুলো, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু মানুষগুলোর কথা একবার ভেবে দেখেছে? উন্নয়নের মালাই চেখে, আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিয়ে, নিম্নস্তরীয় ওই প্রশ্রয়দাতাদের, এই পাপ গোপন করা আর যায় না, সহ্য করাও অসাধ্য।আরেকটা প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি, এই মোফেক্কেরুলদের ফান্ডিং আর সাহস কোথা থেকে আসে??’
এদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে৷ যেখানে এনআইএ-এর হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকার বিডিও অফিসে সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)- এর কাজে জড়িত সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ঘেরাও করার বিষয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত রিট পিটিশন (সিভিল) নং ৩/২০২৬-এর ০২.০৪.২০২৬ তারিখের আদেশের (অনুলিপি সংযুক্ত) প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশের ১৩(viii) অনুচ্ছেদ অনুসারে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, মাননীয় আদালত নিম্নরূপ নির্দেশ দিয়েছেন:-
“১৩(viii) আমরা ইসিটি-কে (ECT) গতকালের ঘটনার তদন্তের ভার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) বা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-এর মতো একটি স্বাধীন সংস্থাকে অর্পণ করার নির্দেশ দিচ্ছি। এই মর্মে যথাযথ আদেশ দিনের মধ্যেই জারি করা হবে। এ বিষয়ে একটি সম্মতি প্রতিবেদনও এই আদালতে জমা দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে, আমরা আরও নির্দেশ দিচ্ছি যে, যে সংস্থাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।”
৩. এই প্রসঙ্গে, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত/অনুসন্ধান পরিচালনা করা হোক এবং উপরোক্ত নির্দেশাবলী অনুসারে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সরাসরি মাননীয় আদালতে জমা দেওয়া হোক।
সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালেই এনআইএ-এর গোয়েন্দারা মালদার মোথাবাড়িতে পৌঁছাতে পারেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু করতে চায় তারা।।
