এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),০৪ জানুয়ারী : পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার কুলুমোড় গ্রামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে মৃতার শ্বশুর এবং শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশ জানায় ধৃতদের নাম গদাই মাজি ও সনকা মাজি । মৃতা বধূর নাম বিউটি মাজি (২৭)। এই ঘটনায় মৃতার বাপেরবাড়ির পক্ষ থেকে মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে মৃতার স্বামী নীলকন্ঠ মাজি,নীলকন্ঠর দাদা টোটন ও বউদি বৈশাখী মাজি । বাকি ৩ জন পলাতক । পুলিশ তাদের খুঁজছে ।
জানা গেছে,মৃতা বিউটি মাজির বাপেরবাড়ি বীরভূম জেলার নানুর থানার শ্রীপল্লী গ্রামে । সাত বছর আগে কুলমোড় গ্রামের বাসিন্দা নীলকন্ঠ মাজির সঙ্গে তার প্রেম বিবাহ হয় । তাদের ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে ।
জানা যায়, বিউটির বাবা গদাধর মাজি কলকাতার বেলঘড়িয়ায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।মেয়ের বিয়ের বছর দুয়েক পর বিউটি ও নীলকন্ঠকে নিয়ে গদাইবাবু বেলঘড়িয়ায় চলে যান। সেখানেই নীলকন্ঠ কাজকর্ম করছিলেন । কিন্তু সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয় । তার জেরে এক সপ্তাহ আগে নীলকন্ঠ তাঁদের ৫ বছরের ছেলে বিট্টুকে নিয়ে চলে আসেন নিজের বাড়িতে। তার দুদিন পরেই বিউটি কলকাতা থেকে বাপেরবাড়ি চলে যান। তারপর বধূর বাপের বাড়ির তরফে ঝামেলা মেটাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়৷ নীলকন্ঠ তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যেতে রাজি হন। গত শুক্রবার নীলকন্ঠ শ্বশুরবাড়ি না গিয়ে কীর্নাহার থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যান ।
মৃতার দাদা প্রভাকর বলেন,’আমরা জানতাম ওদের মধ্যে অশান্তি মিটে গিয়েছে। কিন্তু শনিবার গ্রাম থেকে খবর পাই আমার বোনকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। খবর পেয়ে ওখানে গিয়ে দেখি নীলকন্ঠ ও তার দাদা-বউদি পালিয়ে গিয়েছে। আমার বোনের গলায় কালশিটে দাগ এবং পাশে পড়ে থাকা মাফলার দেখে বুঝতে পারি যে আমার বোনকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।’
জানা গিয়েছে শুক্রবার রাতে বিউটি ও নীলকন্ঠ একটি ঘরে শুয়েছিল। পাশের ঘরে শুয়েছিল নীলকন্ঠর দাদা টোটন ও বউদি বৈশাখী। পাশের অন্য একটি ঘরে নীলকন্ঠর বাবা মা। দাদু ঠাকুমার সঙ্গে ছিল বিউটির ছেলে বিট্টু। বাচ্ছাটি সকালে মায়ের খোঁজ করতে ঘরে ঢুকলে তার মাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে । দুপুর পর্যন্ত দেহটি ওই ভাবেই পড়ে ছিল। বিকেলে পুলিশ খবর পেয়ে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় ।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই বধূকে। আজ রবিবার দেহটি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো হয় । এদিন ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক মৃতার শ্বশুর গদাই মাজিকে দু’দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।।

