এইদিন ওয়েবডেস্ক,শ্রীনগর,০৪ মার্চ : কাশ্মীরি হিন্দু পন্ডিতদের গণহত্যা নিয়ে কোনো দিন উচ্চবাচ্চ নেই । পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় রাস্তায় নেমে ছিল না বিক্ষোভ । শেহবাজ শরীফ বা পাকিস্তানের কোনও পোস্টার পোড়ানো হয়নি । কিন্তু বারবার ভারত ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ইরানের নৃশংস স্বৈরশাসক আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির হত্যায় প্রতিক্রিয়া জানাতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করলেন না জম্মু-কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতি । ইরানের উপর ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার (৪ মার্চ, ২০২৬) শ্রীনগরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টার পুড়িয়েছেন মেহবুবা মুফতি । সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বিক্ষোভের একটি ভিডিও শেয়ার করে মেহবুবা মুফতি লিখেছেন, “যারা আপনার সাথে আছে আমি শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সাথে আছি এবং যারা আপনার বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে আমি কেয়ামত পর্যন্ত দাঁড়াবো।’
এদিকে মেহবুবা মুফতি এই কর্মকাণ্ডের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে । একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,’কাশ্মীরি হিন্দুদের গণহত্যায় ইয়াসিন মালিক বা বিচ্ছিন্নতাবাদীর কোনও পোস্টার পোড়ানো হয়নি। পাহেলগাম হামলায় শেহবাজ শরীফ বা পাকিস্তানের কোনও পোস্টার পোড়ানো হয়নি।কিন্তু খামেনির মতো স্বৈরশাসক নিহত হওয়ার সাথে সাথে মেহবুবা মুফতি নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টার পোড়ান । উমাহ গুরুত্বপূর্ণ, হিন্দুরা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
আর একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,’মেহবুবা মুফতি ইরানের উপর আক্রমণ এবং খামেনির সমর্থনে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর পোস্টার পুড়িয়েছেন। পহেলগামের ঘটনাটি ঠিক তার বাড়ির উঠোনে ঘটেছিল। তিনি প্রতিবাদে একটি কথাও বলেছিলেন? রাস্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করা বা সন্ত্রাসীদের পোস্টার পোড়ানো তো দুরের কথা !’
ভারত সম্পর্কে খোমিনির কি দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ?
অভিযোগ ওঠে যে আলি খামেনি ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে জড়িত ছিলেন । কাশ্মীরি জিহাদিদের জন্য তৈরি সাহিত্য ইরানে ছাপা হত। খামেনি সর্বদা কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করতেন। এমনকি পহেলগাম হামলার আগে হামাসের সন্ত্রাসীরা প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্থান অধিকৃত কাশ্মীরে এসেছিল। আর এই হামাস হল ইরানের লালিত-পালিত একটি কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ।
অপারেশন সিন্দুরের সময় খামেনি পাকিস্তানকে ড্রোন সরবরাহ করেছিলেন। চীন, ইরান উভয়কেই পাকিস্তান অস্ত্র সরবরাহ করে। ২০২০ সালের ৫ মার্চ একটি টুইটে খামেনির ভারতের হিন্দুদের সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘ভারতে মুসলিমদের গণহত্যায় সারা বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয় শোকাহত। ভারত সরকারের উচিত উগ্র হিন্দু এবং তাদের দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মুসলিমদের গণহত্যা বন্ধ করা, যাতে ভারত ইসলামের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়।’ তিনি ইন্ডিয়ান মুসলিম ডেঞ্জার হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছিলেন ।।

