উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম….এই দুটো নাম দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারনে সুপরিচিত । দু’জনের মধ্যে আর একটা মিল আছে । আর সেটা হল তারা দু’জনেই বামপন্থী ও উগ্রবামপন্থীদের এপিসেন্টার জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্রনেতা এবং ২০২০ সালের দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় এরা দু’জন হল ‘মাস্টারমাইন্ড’৷ দিল্লির এই দাঙ্গায় ৫৩ জন মারা গিয়েছিল এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিল । দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয় । ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে । তারা এখনও তিহার জেলে বন্দী । গত সোমবার উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায় যে মামলায় “অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের” প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে। যদিও একই মামলায় গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সলিম খান এবং শাদাব আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত ।তার পরেই সামনে আসে বনজ্যোৎস্না লাহিড়ীর(Banojyotsna Lahiri) পোস্ট, যিনি উমর খালিদের (Umar Khalid) প্রেমিকা । একজন বাঙালি হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে । উমর খালিদ দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জেলে থাকলেও তাদের প্রেম অটুট । যা নিয়ে গর্বিত বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থীরা ।
এমনই এক “গর্বিত” বামপন্থীর ফেসবুক পোস্ট সামনে এসেছে৷ যিনি মূলত “চাড্ডি” অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করতে পোস্টটি লিখেছেন৷ সৌম্য মন্ডল (Soumo Mondal) নামে ওই বামপন্থী লিখেছেন,’চাড্ডিরা হঠাৎ আজ জেনেছে যে কাশ্মীরী মুসলিম উমর খালিদের প্রেমিকা একজন বাঙালি ব্রাহ্মণ বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী! এটাই তাদের এখন স্যোশাল মিডিয়ায় ক্যাওরা কীর্তনের বিষয়। দুইজনাই আমার ব্যক্তিগত ভাবে পুরনো পরিচিত হওয়ায় কিছু কথা বলতে চাই। বনজ্যোৎস্না আমার কলেজের সিনিয়র, ওকে ২০০৬ থেকে চিনি। আর উমরকে চিনি ২০১০ থেকে। ওদের সাথে আমার সম্পর্কটা রাজনৈতিক। অর্থাৎ রাজনৈতিক বন্ধু বা কমরেড। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে কৃষক, আদিবাসী আন্দোলন, তেলেঙ্গানা সলিডারিটি ইত্যাদি… দুইজনাই বামপন্থী (অনেকের মতে আমরা একটু বেশিই বাম) আন্দোলনের মানুষ। দুইজনেরই গবেষণা সম্ভবত ঝাড়খন্ডের আদিবাসীদের নিয়ে।’
‘বনজ্যোৎস্নাকে যে ভাবে লাভ জিহাদের শিকার বলে দেখানো হচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কমন ফ্রেন্ডরা খুব হাসাহাসি করেছি। বনজ্যোৎস্না বয়সে ৭/৮ বছরের বড় শুধু নয়, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন দাপুটে নেত্রীও। সুতরাং ওকে বামুনের ভোলাভালা মেয়ে যাকে একটি মুসলিম ছেলে লাভ জিহাদের শিকার করেছে, এটা প্রচারটা খুবই কমেডি। বনজ্যোৎস্নার কাছেও সম্ভবত খুব বিরক্তির। সে তার এক্টিভিজম, একাডেমিক কাজের পাশাপাশি উমরের জন্য পাঁচ বছর ধরে বিশ্বস্ত বন্ধুর মত কোর্ট কাছারি জনমত গঠনের কাজ করে যাচ্ছে। বনজ্যোৎস্নার নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ের থেকে বেশি উমরের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে। উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা যদি জেলে যায় তার পর তাদের নেতা বন্ধুরা কীভাবে বাড়ির লোকের ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়, তা আমরা দেখেছি। গালাগালি না দিয়ে বনজ্যোৎস্নার থেকে শিক্ষা নিলে ভালো।’
‘উমর কাশ্মীরী নয়। ওর চোদ্দগুষ্টির কেউই সম্ভবত কাশ্মীরী নয়। দিল্লির ছেলে, খুবই সংবেদনশীল মানুষ। মানে একজন কলেজ ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টের যেমন হওয়াটা স্বাভাবিক। অবশ্য কর্পোরেট মিডিয়া যেমন আত্মকেন্দ্রিক কেরিয়ারিস্ট যুবসমাজ গড়তে চায় উমর বা বনজ্যোৎস্না তার সাথে খাপ খায় না। অন্যদিকে ধর্মীয় রাজনীতি যেভাবে অশিক্ষিত গাধা গাম্বাট হেটফুল নতুন প্রজন্ম গড়তে চায় ওরা দুইজন সেটাও নয়।’
‘সত্যিকথা বলতে কী, রাষ্ট্রের চোখ দিয়ে দেখলে, উমরকে এতদিন জেলে রাখার কোনো মানে হয় না। এমন নয় যে সংগঠক হিসেবে সাফল্য দেখিয়েছে, না উমর বড় কোনো ক্যাঁচাল পার্টির সম্পাদক। উমর একজন ভালো বক্তা, ক্যাম্পেনার। উমরের বক্তব্য মানুষের শুনতে ভালোলাগে। উমর ইউথদের মধ্যে বাম লিবারাল মন গঠনে সহায়তা করে৷’
‘কিন্তু তার চেয়ে অনেকবেশি ঘৃণা ছড়ানোর ধর্মীয় উগ্রবাদী বক্তা আছে। পাঁচ বছর বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখাটা হিন্দুত্বফ্যাসিবাদের মতাদর্শগত হীনমন্যতাকেই দেখায়। এটা মোদী সরকারের নৈতিক হার। উমরকে আমি যত দূর চিনি, জেলে বেদম বোর হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ওকে যে রাষ্ট্র শুধুমাত্র কথা বলার জন্য এতদিন আটকে রেখেছে, এটা ভেবে যৎপরোনাস্তি মজা পাচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একজন নিরস্ত্র বক্তার সামনে নিজের ল্যার ঝেড়ে অবস্থা দেখিয়ে দিয়েছে।’
সৌম্য মন্ডল আরও লিখেছেন,’আমি কেন উমরের মুক্তি চাই? একটা বিশেষ ব্যক্তিগত কারণ আছে। আমার জীবনে আনন্দ ফুর্তির শেষ নেই। কিন্তু সমস্ত আনন্দ ফুর্তির সময় মনটা হিংসায় ভরে ওঠে, উমরকে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র জেলে রেখেছে, আমাকে রাখেনি। আর কোনো আনন্দ ফুর্তিই পরিপূর্ণ হয় না। কারণ মনটা খচ খচ করে, উমর জেলে আছে। ফলত টোটাল আমোদের জন্য উমরকে বের করে আনা প্রয়োজন।’ সবশেষে তিনি লিখেছেন,’সতর্কবার্তা: একই ভাবে বনজ্যোৎস্না ব্রাহ্মণ পদবির বাড়িতে জন্মালেও,ওর সামনে ওকে এরকম ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণ করলে নিশ্চিত সিগারেটের ছ্যাকা দিয়ে দেবে।’
এর আগে ২০২২ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির করকারডুমা আদালত দিল্লি হিংসার ঘটনায় প্রাক্তন জেএনইউ (JNU) ছাত্রনেতা উমর খালিদের জামিন প্রত্যাখ্যান করে দেয়। উমর খালিদকে দিল্লি হিংসার ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (UAPA) বেআইনি কার্যকলাপ, (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। দিল্লির এই ঘটনায় ৫৩ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ জন জামিন পেয়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (NRC) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন রাজধানী শহরে এই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। খালিদ ছাড়াও CAA-NRC বিরোধী আন্দোলনে JNU-এর ছাত্রী নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা, জামিয়া সমন্বয় কমিটির সদস্য সাফুরা জারগার, প্রাক্তন AAP কাউন্সিলর তাহির হুসেন এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা হয়েছিল।
উমর খালিদের সঙ্গে প্রেমের শুরুর কাহিনী সাংবাদিক সমর হালার্নকার, প্রিয়া রামানি এবং নিলুফার ভেঙ্কটরামন দ্বারা পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ‘ইন্ডিয়া লাভ প্রজেক্ট’-এ বর্ণনা করেছিলেন বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী । তিনি বলেন যে খালিদ এবং তার পরিচয় ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (বিএ) করার সময় এবং তিনি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে স্নাতকোত্তর (এমফিল) করার সময়। “আমরা দুজনেই বাটলা হাউস এনকাউন্টারের পর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়েছিলাম। বছরগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে, আমরা লিঙ্গ এবং বর্ণ সম্পর্কে উগ্র বামপন্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম এবং সেই চিন্তাধারা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম।” একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজের কল্পনা করার” এই যাত্রাই খালিদ এবং লাহিড়ীকে একত্রিত করেছিল এবং তারা ২০১৩ সালে ডেটিং শুরু করেছিল। তবে, তারপর থেকে জীবন তাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সহজ ছিল না ।
কারাগারে থাকাকালীন খালিদের সাথে তাদের সম্পর্ক কীভাবে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে তা ভাগ করে নিতে গিয়ে বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী বলেন, “আমরা সপ্তাহে একবার দেখা করি— দিল্লির তিহার জেলের কাচের পার্টিশনের ওপারে এবং ইন্টারকমে কথা বলি। আমরা হাসি , রসিকতা করি এবং দুঃখজনক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি না। যখন আমি একা বের হই তখনই আমার খারাপ লাগে। সে আমাকেও ফোন করে, এবং আমাদের আদালতের তারিখ থাকে, শ্লেষের উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও জানান যে আদালতে যখন দুজনে সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন। লাহিড়ী বলেন, “গতকাল আমি তাকে বলেছিলাম তার চুল কাটাটা বোকামিপূর্ণ দেখাচ্ছে। তোমার মেসির চুল কাটাও এরকম,” সে উত্তর দিল। আমি বললাম, তোমার জায়গাটা জানো। সে ফুটবল বোঝে না তাই এই বিষয়ে কোনও কথা বলা সম্ভব নয়। সে আইপিএল দেখে এবং আসলে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে আমি কোন দলকে সমর্থন করি। আমি ক্রিকেট ভক্ত নই। আইপিএল কি আসলেই ক্রিকেট?”
তিনি বলেন,’২০১৬ সালে, একটি জাতীয় টিভি বিতর্ক আমাদের, বিশেষ করে উমরকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল। তারপর থেকে জীবন হলো রাষ্ট্রীয় দমন -পীড়ন এবং মিডিয়া ট্রায়াল এড়িয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম করার বিষয়ে—এই আতঙ্ক আমাদের মাথার উপর সবসময় ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০১৮ সালে যখন কেউ তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল তখন আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি লোকটিকে রিভলবার বের করতে দেখেছি, পুলিশ বলেছিল যে বন্দুক আটকে আছে, তোমরা ভাগ্যবান ।’ লাহিড়ী বলেন, যখন তোমরা একসাথে এই বিষয়গুলির মধ্য দিয়ে যাও, তখন তোমরা একে অপরের সাথে মিশে যাও।
উপসংহারে, লাহিড়ী বলেন যে তার বাবা-মা খালিদের জন্য অত্যন্ত গর্বিত এবং তার বাবা-মাও তাকে সমান ভালোবাসা দেন। “তারা উমরের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, কিন্তু সুখের জন্য, আমরা এখনও লড়াই করছি। এই বছরগুলিতে যখন আমাদের আলাদা থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল, তখন আমরা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছি ।’
২০২২ সালের এপ্রিলে উমর খালিদের (Umar Khalid) বাঙালি বান্ধবী “অন্তঃসত্ত্বা” দাবি করে টুইটার পোস্ট করেছিলেন জনৈক নেটিজেন। তখন সবেমাত্র দিল্লি হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল ছাত্রনেতা উমর খালিদকে। তারপর থেকে তিহার জেলেই বন্দি তিনি। এর মধ্যেই বান্ধবী বনজোৎস্না লাহিড়ীকে (Banjyotsna Lahiri) নিয়ে এই মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে নেটিজেনের বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ বনজোৎস্না এই ঘটনার আইনের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন । বনজোৎস্না টুইট করেন, ”মহিমা নামে জনৈক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী আমার নামে ভুয়ো তথ্য প্রচার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” বনজোৎস্নার টুইটে উল্লেখ ছিল বৃষ্টি সেনগুপ্ত নামে আরও এক সোশ্য়াল মিডিয়া ব্যবহারকারীর নাম। দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছিলেন, ”ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমার চরিত্র হনেনর চেষ্টা চলছে। আমাকে এর জন্য হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। দিল্লি পুলিশকেও গোটা বিষয়টি জানিয়ে রাখছি।”
কে বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী?
বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী একজন সমাজ গবেষক এবং লেখিকা। তিনি বর্তমানে সেন্টার ফর ইক্যুইটি স্টাডিজে একজন সিনিয়র গবেষক হিসেবে কাজ করেন। তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুসারে, তিনি দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অতিথি প্রভাষক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি জেএনইউ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।উমর খালিদ এবং বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী বিবাহিত নন, তবে তাদের মধ্যে খোলামেলা সম্পর্ক রয়েছে। কলকাতার স্কুল শিক্ষক এবং কলেজ অধ্যাপকদের পরিবারে বেড়ে ওঠা ৪০ বছর বয়সী গবেষক বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী, শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন । তবে তার বাবা-মায়ের নাম পাবলিক ডোমেইনে খুঁজে পাওয়া যায়নি । সম্ভবত পারিবারিক পরিচিতি ও বাসস্থানকে তিনি প্রকাশ করতে চাননি । “ইন্ডিয়া লাভ প্রজেক্ট” এর মাধ্যমে তাদের প্রেমের গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। বনজ্যোৎস্না প্রকাশ করেছেন যে উমর খালিদ কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তিহার জেলের কাচের দেয়ালের ওপারে ইন্টারকমের মাধ্যমে তারা সপ্তাহে একবার কথা বলেন। তাদের কথোপকথনের সময়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দুঃখ এড়িয়ে চলেন এবং হালকা কথোপকথন করেন।
উমর খালিদের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তার মা পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। এস.কিউ.আর. ইলিয়াস ভারতের ওয়েলফেয়ার পার্টির জাতীয় সভাপতি এবং একসময় নিষিদ্ধ সংগঠন সিমির সাথে যুক্ত ছিলেন, যা তিনি ১৯৮৫ সালে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
উমর খালিদের দুই বোন রয়েছে, কুলসুম ফাতিমা এবং সারা ফাতিমা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, উমর খালিদকে তার বোনের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত জামিন দেওয়া হয়েছিল। তার বাবা বলেছেন যে দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও, উমর সাহস হারাননি এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি নির্দোষ।
উমর খালিদের মামলা কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। সমর্থকরা তাকে একজন রাজনৈতিক বন্দী বলে অভিহিত করে, অন্যদিকে সরকার তাকে দাঙ্গার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের পর, এটা স্পষ্ট যে উমর খালিদের আইনি পথ এখনও দীর্ঘ, এবং তার গল্প বর্তমানে কারাগারের আড়ালে লেখা হচ্ছে।।

