পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),০৩ জানুয়ারী : বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস । সেই সময় সাইকেলে চড়ে স্কুলে যাচ্ছিল সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া ৷ ছেলেটি আচমকা বাসের পিছন থেকে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে এলে বিপরীত দিক থেকে আসা প্রবল গতির একটি মালবাহী ছোট গাড়ি কিশোরকে সজোরে ধাক্কা দেয় । সাইকেল নিয়ে অনেকটা দূরে ছিটিকে পড়ে ছেলেটি । তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে গাড়ি নিয়ে না পালিয়ে কিশোরের চিকিৎসার জন্য তদ্বির করেন চালক । এমনই নজির দেখা গেলো আজ সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার সমুদ্রগড়ে পারুল ডাঙ্গা মোড়ে । গুরুতর আহত কিশোর অয়ন রায়কে তড়িঘড়ি কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ কিশোরের সাথে হাসপাতালেও যান গাড়ি চালক হাওড়ায় জগাছার অজয় প্রসাদও । বর্তমানে ওই পড়ুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে ।
জানা গেছে,নদীয়া জেলার মানিকনগর থানার উত্তর কপালি পাড়ার বাসিন্দা অনন্ত রায়ের একমাত্র সন্তান অয়ন৷ সে নাদনঘাট থানার পারুলিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র । আজ সকালে যথারীতি বাড়ি থেকে সাইকেলে চড়ে স্কুলে আসছিল অয়ন । সকাল প্রায় ১১ টা নাগাদ সে পারুল ডাঙ্গা মোড়ে এলে দেখে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে একটি বাস যাত্রী ওঠানামা করছে । সেই সময় বিপরীত দিক থেকে একের পর এক যানবাহন আসতে থাকায় অয়ন বাসের পিছনে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে ৷ এরপর সুযোগ বুঝে সে বাসের পিছন থেকে সাইকেল নিয়ে বের হতেই বিপরীত দিক থেকে আসা প্রবল গতির একটি ১০৭ মালবাহী গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায় ।
বেশ কিছুটা দূরে সাইকেল নিয়ে ছিটকে পড়ে ওই কিশোর । তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে । তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দা ও কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার । খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নাদন ঘাট থানার আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজও । তিনি জখম কিশোরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন । আহত কিশোরের সঙ্গে হাসপাতালে আসেন ওই মালবাহী গাড়ির চালক । পাশাপাশি পড়ুয়ার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্কুলের শিক্ষকরাও হাসপাতালে যান তার স্বাস্থ্যের খবর নিতে ।
প্রসঙ্গত,কোনো বেপরোয়া গাড়ির কারনে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণত পালিয়ে যাওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায় চালকদের মধ্যে । কিন্তু একটা ছোট্ট ছেলেকে ধাক্কা দেওয়ার পর হাওড়ায় জগাছার ১০৭ গাড়ির চালক অজয় প্রসাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় আজ । যা এলাকার মানুষের নজর কেড়েছে । অজয় প্রসাদ বলেন,’আমারও ওর মত ছোট্ট সন্তান আছে । তাই ছেলেটাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে আমার নিজের সন্তানের মুখটা মনে পড়ে গেলো । ভগবানের কাছে মনে মনে বারবার প্রার্থনা করছি যে তিনি যেন বাচ্ছাটাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন ।’ অবশ্য পুলিশ তার গাড়িটা আটক করেছে ।।

