প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৬ ফেব্রুয়ারী : পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি-১ ব্লকের দিলালপুরে ডিভিসি সেচ খালের উপরে রয়েছে একটি কাঠের সেতু । বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেতুটি । তাতেই প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হয় এলাকাবাসীকে । অনেক তদ্বির তদারকি করেও সেতুর হাল ফেরেনি বলে অভিযোগ । এই সেতুকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে জমছিল ক্ষোভ । ২৪ শের লোকসভা ভোটে ভোট বয়কটও করে এলাকাবাসী । ২৬-শের ভোটের আবহে রাজ্যে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া দেখে এবারে দিলালপুর বাসীর “দিল” খুশ করতে আসরে নেমে পড়ল মেমারি-১ ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্ব ৷ । সেই মতো বুধবারই সেরে ফেলা হল ভগ্নপ্রায় ওই কাঠের সেতু ভেঙে ফেলে সেখানে লোহার নতুন সেতু গড়ার শিলান্যাস পর্ব। যদিও এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দল । বিজেপি বলছে,তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক না কেন, এবারে ওরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হবেই ।
জানা গেছে,মেমারির বাগিলা পঞ্চায়েতের দিলালপুর হয়ে মেমারি আসার একমাত্র অবলম্বন ডিভিসি সেচ খালের উপরে থাকা ওই কাঠের সেতু। । ৫-৬টি গ্রামের বাসিন্দা এই সেতুর উপর নির্ভরশীল ।বাম আমলে সেতুটি তৈরি হয় । কিন্তু তৈরি হওয়ার পর থেকে আর সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি । ইতিমধ্যে রাজ্যে পালাবদল হয় । স্থানীয়দের বারবার দাবি সত্ত্বেও সেতুটি সংস্কারের বিষয়ে শাসকদল উদাসীন ছিল বলে অভিযোগ । এদিকে ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে পড়ে সেতুটি । বিপজ্জনক হিসাবে চিহ্নিত করে একাধিক বার সেতুটি বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল । পরে স্থানীয়দের চাপে তা আবার খোলা হয়। এখন সেতুটির একেবারে ভগ্নপ্রায় দশা ।গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, যে কোনও সময়েই সেটি ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তবুও ঝুঁকি নিয়েই তাদের ওই সেতু দিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন ।
জানা যায়,সেতুটি সংস্কারের জন্য এলাকার বাসিন্দার বারে বারে দাবি জানায় । কিন্তু আশ্বাস মিললেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০২৪ শের লোকসভা ভোটে এলাকাবাসী ভোট বয়কটের ডাক দেন।গ্রামে ভোট প্রচার থেকে শুরু করে দেওয়াল লিখন,সবেতেই তারা আপত্তি তোলেন। দিলালপুর-সহ পার্শ্ববর্তী আরও ৫-৬টি গ্রামের কোথাও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ছবি দেওয়া ব্যানার টাঙাতে তারা দেননি।কেউ দেওয়াল লিখন করলে তা তারা মুছে দেওয়া হয় । গত লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমে বর্ধমান পূর্বের সাংসদ ডাঃ শর্মিলা সরকার নিজেও এইসব কিছুই তখন চাক্ষুষ করেছিলেন। এই এলাকায় ভোটের প্রচারে গিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখেও পড়েছিলেন। প্রচারে গিয়েও প্রচার না সেরে তাঁকে দিলালপুর গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল ।
এদিকে আসন্ন বিধানসভার ভোটের আগে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশ হতে চলেছে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা । প্রায় ১.২০ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার মাঝে মেমারি-১ ব্লকের দিলালপুরের সেতু ইস্যুতে কয়েকটি গ্রাম মিলে যদি ফের ভোট বয়কট করে তাহলে কাদের ক্ষতি,সেটা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে শাসকদল ।
এমতাবস্থায় দিলালপুর সংলগ্ন ৫-৬ টি গ্রামের মানুষজনের মন জয় করতে তৎপর হয়ে উঠেছে শাসকদল নেতৃত্ব । দিলালপুরে ডিভিসি সেচ খালের উপরে থাকা ভগ্নপ্রায় সেতুটি নতুন করে তৈরির জন্য বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ শর্মিলা সরকার তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন । বুধবার মেমারি-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ব্লকের বিডিও শতরুপা দাসকে পাশে নিয়ে দিলালপুরে সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে সেই কথা এলাকাবাসীকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ।পাশাপাশি আর ভোট বয়কটে না গিয়ে এবারের বিধানসভা ভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নেওয়ার জন্যে তিনি দিলালপুর বাসীর কাছে আবেদন রাখেন।
এদিকে এনিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,’এসআইআর (SIR) তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমোরও রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তাই এবারের বিধানসভা ভোটে ভোট বয়কট রুখতে মরিয়া তৃণমূল। সেই কারণে গত দু’বছর যাবৎ মেমারির দিলালপুরের সেতু তৈরির কথা তাদের মনে না পড়লেও ভোটের দিন ঘোষনার ঠিক আগেই তাদের মনে পড়েছে । আসলে তৃণমূল বুঝে গিয়েছে এতকাল তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার পেয়ে গেলেও আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। তবে যাই করুক, এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিৎ ।।

