এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ এপ্রিল : ভবানীপুরের চার অফিসারকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন৷ তাঁরা হলেন— কলকাতা পুলিশের ডিসি (২) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ওই চার জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন। গত বৃহস্পতিবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জেরেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত,গত ২ এপ্রিল ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিতে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ। রোড শো করে মনোনয়ন জমা দিতে যান তাঁরা। শাহের কনভয় যখন ঠিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে আসে, তখন উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে কার্যত সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন হয় যে কনভয় থেকে নেমে ছোট গাড়িতে বাকি রাস্তা পার হতে হয় শাহকে। ঘটনার পরেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। ওই গোলমালের ঘটনায় কালীঘাট এবং আলিপুর থানায় পৃথক ভাবে তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করে। দু’টি এফআইআর করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মূলত বেআইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের।
কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচনী দপ্তরে সচীব সুজিত কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিইও-র কাছ থেকে প্রাপ্ত ০৩.০৪.২০২৬ তারিখের ৪৩৮৮-হোম(ইলেকশন) নং পত্রটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে উপরোক্ত বিষয়ে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি-২, শ্রী সিদ্ধার্থ দত্ত; আলিপুরের ওসি, শ্রী প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী; আলিপুরের অতিরিক্ত ওসি, শ্রী চণ্ডীচরণ ব্যানার্জী এবং আলিপুরের সার্জেন্ট, শ্রী সৌরভ চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে এবং নির্দেশ দিচ্ছে যে, উল্লিখিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।কমিশনের এই নির্দেশাবলী অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং এই বিষয়ে একটি সম্মতি প্রতিবেদন ০৫.০৪.২০২৬ তারিখ সকাল ১১:০০ টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
অধিকন্তু, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি-২ পদে সৃষ্ট শূন্য পদগুলি পূরণের জন্য আপনাকে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শীঘ্রই ওই চার জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই চিঠির একটি কপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশমতো পদক্ষেপ করার কথা উল্লেখ করেছে কমিশন।।
