প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৮ মার্চ : প্রার্থী হয়ে ভোটের প্রচারে নেমেই তৃণমূল শিবিরে ভাঙ্গন ধরালেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার। সোমবার বিজেপির তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে।তখনই দেখা যায় জাতীয় তপশিলী কমিশনের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদারকে বিজেপি ২৬২ নম্বর জামালপুর তপশীলি বিধানসভার প্রার্থী করেছে। প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার জামালপুরে জৌগ্রামের গোপালপুর মুক্তকেশী কালীমন্দিরে পূজো দিয়ে অরণ হালদার ভোটের প্রচার শুরু করেন । সেদিনই তিনি জামালপুরের জৌগ্রাম এলাকা থেকে নির্বাচিত তিনবার তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্যা মেহেলা কীর্তনীয়া সাউকে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে থাকতে দেখা যায় । বিজেপি প্রার্থী মুক্তকেশী কালী মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে মেহেলা কীর্তনীয়াও উপস্থিত থাকেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের তৃণমূল নেত্রী মেহেলা কীর্তনিয়াকে এদিন বিজেপি শিবিরে ভিড়ে থাকায় দেখা যাওয়ায় জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মেহেলা কীর্তনীয়া জানান, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য ছিলেন।বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে মেহেলা কীর্তনিয়া বলেন,“বাংলায় নারীদের সুরক্ষা না থাকা,যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৃণমূল সরকার তৈরি করতে না পারা এবং সর্বোপরি দেশের স্বার্থে মোদি সরকারের উন্নয়ন তাঁকে বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট করেছে বলে মেহেলা কীর্তনীয়া এদিন জানান। মুক্তকেশী কালী মন্দিরে উপস্থিত থাকা জৌগ্রামের বিজেপি নেতারা জানিয়ে দেন , খুব শিগ্রী জেলা ও রাজ্য স্তরের বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে জামালপুরে বড় সভা করে মেহেলা কীর্তনীয়া কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করানো হবে।
অরুণ হালদারের শৈশব কেটেছে জামালপুরের জৌগ্রাম অঞ্চলের নুরি গ্রামে। এখানকার গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করতেন। এখান থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি ও তাঁর পরিবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসবাস করেন । প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হওয়া অরুণ হালদার আশির দশক থেকে বিজেপি ও আর এস এস সঙ্গে যুক্ত হন । অটলবিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী,আমিত শাহ এমনকি দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও তাঁর সক্ষতা রয়েছে৷।
