এইদিন ওয়েবডেস্ক,রাজস্থান,২৯ জানুয়ারী : স্বামীর ভাগ্নের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মামি। কিন্তু প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বামী । তাই পথের কাঁটা সরাতে মদে কীটনাশক মিশিয়ে স্বামীকে মেরে ফেললো মামি । এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের ধোলপুরে । যদিও খুনের রহস্য উন্মোচন করতে পুলিশের সময় লেগে গেছে দীর্ঘ ১১ মাস। ঘটনাটি রাজস্থানের ধোলপুর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার ভৈনসাখ গ্রামের। ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৪৫ বছর বয়সী শঙ্কর সিং লোধা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। সেই সময় সন্দেহ করা হয়েছিল যে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই শঙ্কর সিংয়ের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে । শেষ পর্যন্ত ডাক্তারি রিপোর্টে ধরা পড়ে যে এটি খুনের ঘটনা । এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর শঙ্কর সিং লোধার স্ত্রী রুবি ভাগ্নে হরেন্দ্র সিং-এর সাথে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলেন । পুলিশ উভয় অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করে । অভিযুক্ত স্ত্রী রুবিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়, অন্যদিকে ভাগ্নে হরেন্দ্র সিংকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ।
আজ তকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,মৃতের বড় দাদা রাজেশ সিং একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন । অভিযোগে তিনি জানান যে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা নাগাদ শঙ্কর সিং তার ভাগ্নে হরেন্দ্র সিং-এর সাথে খামারে যান। হরেন্দ্র সিং সন্ধ্যা ৭:৩০ নাগাদ বাড়ি ফিরে আসেন, কিন্তু শঙ্কর সিং আসেননি। পরের দিন সকালে খামারে শঙ্কর সিং-এর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহের কাছে একটি মদের বোতলও পাওয়া যায়। পুলিশ ময়নাতদন্ত করে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,প্রায় ১১ মাস পর ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর পুরো মামলাটি প্রকাশ পায়। তদন্তে জানা যায় যে শঙ্কর সিং-এর স্ত্রী রুবি এবং তার ভাগ্নে হরেন্দ্র সিং-এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলত। শঙ্কর সিং এবং তার পরিবার এই সম্পর্কের কথা জানতে পারে এবং শঙ্কর সিং পরবর্তীতে তাদের মেলামেশা নিষিদ্ধ করে।
পুলিশ তদন্তে জানা যায় যে এই শত্রুতার কারণে তার স্ত্রী রুবি এবং ভাগ্নে হরেন্দ্র শঙ্কর সিং-কে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ তারিখে হরেন্দ্র সিং তার কাকা শঙ্কর সিং-কে মদ পানের জন্য খামারে নিয়ে যান। সেখানে তারা মদের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে তাকে পান করান, যার ফলে শঙ্কর সিং-এর মৃত্যু হয়। পরে গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই মৃত্যু হয়েছে। এদিকে শঙ্কর সিং-এর মৃত্যুর পর, অভিযুক্ত স্ত্রী রুবি তার ভাগ্নে হরেন্দ্র-এর সাথে হরিয়ানায় পালিয়ে যায় এবং তারা বিয়ে করে। ভিসেরা রিপোর্ট এবং মোবাইল কল ডিটেইলস পরীক্ষা করে পুলিশ খুনের জোরালো প্রমাণ পায়।
মামলার বিবরণে সিও কৃষ্ণরাজ জাঙ্গিদ জানান, ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর উভয় অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় উভয়েই হত্যার পরিকল্পনা এবং অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।।
তথ্যসূত্র ও ছবি : সৌজন্যে আজ তক হিন্দি ।

