এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৫ মার্চ : ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মারা গেছেন এমন ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের পর, প্রধানমন্ত্রী একটি কফি শপের ভেতরে একটি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন । হাতের ৫ আঙুল দেখিয়ে তিনি জানান যে ৬ টি আঙুল তার নেই । তিনি বলেন,”আমি একটু কফি পান করছি এবং আমার দেশবাসীর সঙ্গে গল্প করছি । তুমি কি আমার আঙুল গুনে দেখতে চাও? ওরা আছে। সবাই আছে। ভালো। চিয়ার্স। আমরা ইরানে আরও তীব্র আঘাত করতে থাকব।”
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) নেতানিয়াহুকে ‘খুঁজে বের করে হত্যার’ হুমকি দেওয়ার পর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মৃত্যুর গুঞ্জন ও অসমর্থিত খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই এই নেতা কফিশপ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এবং লিখেছেন, ‘ওরা আমার সম্পর্কে কী বলছে? দেখুন।’
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, নেতানিয়াহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অথবা গুরুতর আহত হয়েছেন। যার কারণে তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। এর মধ্যেই একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেটি নেতানিয়াহুর দাবি করে প্রকাশ করার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়, কারণ তাতে হাতের আঙুল ছয়টি করে দেখা যায় বলে বিভিন্নজন মন্তব্য করেন। এতে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই বলেন যে, সেটি সম্পাদিত কিংবা কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
এমন গুঞ্জনের মধ্যেই শনিবার (১৪ মার্চ) নেতানিয়াহুকে ছাড়াই ইসরাইলের মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়। এতে তার মৃত্যুর দাবি আরও জোরালো হয়। এক্স-এ আজ রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে প্রকাশ করা ভিডিওতে নেতানিয়াহু, একে একে তার দুই হাতে দেখিয়ে আঙুল পাঁচটি করেই আছে বলে প্রমাণ করেন ।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় এবং সরকারি সংবাদ সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে ফার্স এবং আইআরএনএ, আইআরজিসির বিবৃতি উদ্ধৃত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়ে লিখেছে, “যদি নেতানিয়াহু এখনও বেঁচে থাকেন, তাহলে তারা তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করবে।” নেতানিয়াহু এর আগে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে হুমকি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি মোজতবা খামেনিকে জীবন বীমা প্রদান করবেন না।নেতানিয়াহু মোজতবা খামেনিকে “আইআরজিসির পুতুল” বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হতে পারবেন না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইরানি জনগণকে আরও বলেছিলেন যে “স্বাধীনতার নতুন পথের” সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং ইসরায়েল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।।
