এইদিন ওয়েবডেস্ক,বেঙ্গালুরু,০৯ জুন : কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে হিন্দু কর্মী সুহাস শেঠির মামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগসূত্রের তদন্ত করবে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে একটি আদেশ জারি করেছে। প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড দক্ষিণ কন্নড় জেলায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছিল। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত সহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলতি বছরের গোড়ার দিকে, ম্যাঙ্গালোরে ৪২ বছর বয়সী সুহাস শেঠিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গাড়ি আটকে সুহাসকে বাইরে বের করে ভরসন্ধ্যায় সকলের সামনে পিটিয়ে ও তরবারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায় ইসলামপন্থীরা । এই ঘটনার পর, সমগ্র দক্ষিণ কন্নড় জেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনগুলি ৩ মে জেলাব্যাপী বনধের ডাক দিয়েছিল। বিক্ষোভের সময়, তারা মামলাটি এনআইএ-এর কাছে হস্তান্তরের জন্য দাবি জানিয়েছিল।
সুহাস শেঠির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক স্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কন্নড়ের বিজেপি সাংসদ এবং দলের রাজ্য সম্পাদক ব্রিজেশ চৌত্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে মামলার তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন । চিঠিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে কেরালা ভিত্তিক নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। চৌধুরী লিখেছিলেন যে এই ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না। এটি উপকূলীয় কর্ণাটকে চলমান ইসলামী মৌলবাদ এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অংশ। এর আগে, একই এলাকায় ওই সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মীদের হাতে বিজেপি যুব নেতা প্রবীণ নেত্তারু খুন হন। বিজেপি নেতা প্রবীণ নেত্তারু হত্যার দুই দিন পর, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মুসলিম যুবক মোহাম্মদ ফাজিলের প্রতিশোধমূলক হত্যা হয়। নেত্তারুকে হত্যার অন্যতম আসামি ছিল মোহাম্মদ ফাজিল । মোহাম্মদ ফাজিলের হত্যায় নাম জড়ায় সুহাস শেট্টির । দক্ষিণ কন্নড় জেলায় তার বিরুদ্ধে একটি এবং ম্যাঙ্গালোর শহরে চারটি ফৌজদারি মামলা ছিল । নিরাপত্তার কারনে তাকে অনুমদিপ্রাপ্ত বন্দুক রাখার অনুমতিও দিয়েছিল পুলিশ । কিন্তু সেই অনুমতি প্রত্যাহারের অব্যবহিত পরে খুন হয়ে যান সুহাস শেট্টি।।

