এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসানসোল,০৬ জানুয়ারী : বাংলাদেশে বিগত ১৫ দিনে নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬ জন হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে । ব্রজেন্দ্র বিশ্বাস,অমৃত মণ্ডল,দিপু চন্দ্র দাস,খোকন দাস, রানা প্রতাপ বৈরাগীর পর সর্বশেষ সোমবার রাতে মনি চক্রবর্তীকে নৃশংসভাবে খুন করেছে ইসলামপন্থীরা । ওপারের শাসক মোল্লা মহম্মদ ইউনূস আর এপারের ভন্ড ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল পরামর্শ দিয়েছেন, “শান্তি আর সম্প্রীতির মুখোশটা এবার খুলে ফেলুন” ।
বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় মাত্র ২৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আধমরা করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা নাড়া দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে । তারপরেও হিন্দু নরসংহার বন্ধ নেই বাংলাদেশে । সোমবার রাত, ১০টার দিকে, নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে এক হিন্দু মুদিখানা দোকান মালিক মনি চক্রবর্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করেছে ইসলামপন্থীরা । তার মাত্র ঘন্টা খানেক আগে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৭ নম্বর ইউনিয়নের কপালিয়া বাজার এলাকায় রানা প্রতাপ বৈরাগীর (৪৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে মুসলিমরা ।
বাংলাদেশের চলতি হিন্দু নরসংহারের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরঞ্চ উগ্র ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠী জামাত ইসলামির ও অনান্য ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির দেশকে হিন্দু শুন্য করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র । অথচ বাংলাদেশি ক্রিকেটরকে আইপিএল থেকে বের করে দেওয়ায় যেসমস্ত ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সোচ্চার হয়েছিল, তারা চলতি হিন্দু নরসংহার নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে । ভারতের ওই সমস্ত ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষ ও বাংলাদেশের কট্টর ইসলামি শাসক মোল্লা মহম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল “শান্তি আর সম্প্রীতির মুখোশ” খুলে ফেলে হিন্দু নরসংহারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।
অগ্নিমিত্রা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন,’শান্তি আর সম্প্রীতির মুখোশটা এবার খুলে ফেলুন! শরৎ মণি চক্রবর্তী থেকে খোকন দাস—নামগুলো আলাদা হতে পারে, কিন্তু খুনিদের উল্লাস আর প্রশাসনের নির্লজ্জতা একই সূত্রে গাঁথা। সীমান্তের এপারে বসে আমরা দেখছি, কীভাবে প্রতিদিন পরিকল্পনা করে এক-একটা হিন্দু পরিবারকে ধ্বংস করা হচ্ছে, কীভাবে মায়ের কোল খালি করে পৈশাচিক উৎসবে মেতেছে একদল হায়না।’
তিনি লিখেছেন,বাংলাদেশ কি আদৌ কোনো রাষ্ট্র, নাকি কসাইখানা? রোজ একটার পর একটা খুনের ঘটনা ঘটছে, অথচ আপনাদের মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার বদলে ঠান্ডা মাথায় তামাশা দেখছে। এই মৌনতা কি সরকারেরই কোনো গোপন ‘ক্লিনজিং এজেন্ডা’? অপরাধীদের টার্গেট খুব পরিষ্কার—ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করা।’
তিনি ইউনূসকে সতর্ক করে বলেছেন,’মনে রাখবেন, ওপারে আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরলে এপারে আমাদের ধমনীতেও আগুন জ্বলে। দীপু দাস, খোকন দাস, ব্রজেন্দ্র দাসদের খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, তবে বুঝব এই ‘পৈশাচিক উল্লাস’ আপনাদের রাষ্ট্রীয় মদতেই চলছে। ছিঃ! ধিক্কার জানাই আপনাদের এই তথাকথিত শাসনব্যবস্থাকে। এভাবে আর কতকাল? বিচার না পেলে এই ক্ষোভ কিন্তু সীমান্তের কাঁটাতার মানবে না!রক্ত নিয়ে এই হোলি খেলা বন্ধ করুন, নতুবা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’।

