এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ মার্চ : আজ মঙ্গলবার শুভ দোলযাত্রার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনী এলাকা কলকাতার ভবানীপুরে “নাস্তিকতা ও সেকুলার নিপাত যাওয়ার” ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । আজ সকালে ভবানীপুরে “দোল উৎসব উদযাপন ও শোভাযাত্রা”য় অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন,’হিন্দুদের একত্রিত হওয়ার আবেদন জানাই । নাস্তিকতা নিপাত যাক । সেকুলারিজম নিপাত যাক। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিত। হিন্দু জাগরণ হোক । এবং পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা যাতে সুরক্ষিত থাকে,হিন্দু ধর্মাচরণ যাতে স্বাধীনতা নিয়ে করতে পারে সেই প্রার্থনা আমরা সবাই করব ।’
তিনি বলেন,’দোলের উৎসব যাতে ভালোভাবে হয় সেই প্রার্থনা রাধামাধবের কাছে আমি করব ।’ এরপর তিনি “হরি হরায় রামকৃষ্ণ যাদবায় নম” গান ধরেন । গান শেষে “হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই” শ্লোগান তোলেন । পাশাপাশি তিনি শ্লোগান তোলেন : “যো হিন্দু হিত মে কাম করেগা,আনেবালা দিন মে ওহি বঙ্গাল মে রাজ করেগা” । শুভেন্দুর সঙ্গে মঞ্চে সাধুসন্তদেরও দেখা যায় ।
প্রসঙ্গত,এবারের বিধানসভার ভোটে কলকাতার ভবানীপুর আসনটির দিকে গোটা দেশের নজর থাকবে । কারন বিগত বিধানসভার ভোটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জয়ী হয়েছিলেন । তারপর থেকেই ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ঘোষণা করে আসছেন শুভেন্দু । যদিও শুভেন্দুর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে গতকাল মমতা দাবি করেন যে ভবানীপুরে এক ভোটে হলেও তিনি জিতবেন ।
২০২১ সালে বিধানসভার ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা । সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি-র প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। কিন্তু এবারে এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের। শনিবার প্রথম দফার চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ গেছে । অর্থাৎ সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ভবানীপুরে নাম বাদ গিয়েছে ৪৭ হাজার ১১১ জনের । এখনও ভাগ্য নির্ধারণ বাকি ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটারের। ২০২৬-এর বিধানসভার ভোটের আগে ওই ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি হবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে৷ এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হলে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত নাম থাকবে তালিকায়, তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে । যেকারণে ৬০ হাজারের অধিক ভোটারকে বাদ রেখেই ভোট হবে এবার । যে সংখ্যা বিগত ভোটে মমতার জয়ের ব্যবধান থেকে ২০০০-এর বেশি । যেকারণে শুভেন্দুকে দিন তিনেক আগে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘ওকে(মমতা) ভবানীপুরে হারাবই’ । তাই ভবানীপুরের হিন্দু ভোটব্যাংককে একত্রিত করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি । আজ দোল উদযাপনের দিন শুভেন্দুর “নাস্তিকতা ও সেকুলার নিপাত যাওয়ার” ডাক ফের একবার প্রমান করে দিল যে “হিন্দু কার্ড” খেলেই তিনি “মমতা বধ” করার পরিকল্পনা করেছেন ।।

