এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৩ মার্চ : গতকাল কলকাতার লোকভবন (প্রাক্তন রাজভবন)-এ শপথ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রমুখ । তবে রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না বিজেপির কোনো নেতা । আজ শুক্রবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে লোকভবনে যান । তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তিনি রাজ্যপালের হাতে শ্রীমদভগবদগীতার একটি কপি তুলে দেন । পান্ডব- কৌরবের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী সম্বলিত শ্রীমদভগবদগীতা রাজ্যপালকে উপহার দিয়ে শুভেন্দু আদপে কি আসন্ন “কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে’র কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন তাঁকে ? এই প্রশ্ন উঠছে ।
উল্লেখ্য,এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি । সেই সময় ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি । গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিল ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাত প্রকাশ্যে আসে । এমনকি, রাজ্যপালকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিনেরা। এ বার আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসাবে সেই রবিকেই পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনের দায়িত্ব দেওয়ায় চাপে রাজ্যের শাসকদল ।
কারন সামনেই বিধানসভার ভোট । এদিকে এখনো ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এস আই আর প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি । আনন্দ বোসের সময়কালে বিগত প্রায় তিন বছর বিভিন্ন ইস্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিজেপি বারবার রাজ্যপালের কাছে ছুটে গেলেও লাভ কিছু হয়নি। মাঝেমধ্যেই আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে হাবেভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা । ফলে বিধানসভার ভোটের আগে রাজ্যপালের রদবদলে আশার আলো দেখছে বিজেপি।
অন্যদিকে শাকদলের চাপ বাড়লো বলে মনে করা হচ্ছে । সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের পর সমাজমাধ্যমে মমতা লিখেছিলেন,’পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।’ এর পরে তিনি লেখেন,’এই মুহূর্তে তাঁর (বোস) পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন, তবে আমি অবাক হব না।’ এখন দেখার বিষয় বঙ্গে আসার পর নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক কেমন থাকে ।।
