এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ ফেব্রুয়ারী : বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সামনে এসেছে । নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১৩ আসনে জয়লাভ করেছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি জোট । এদিকে ধরাশায়ী হয়েছে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা উগ্র ইসলামি দল জামাত ইসলামি । জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৮ টি আসন। তার মধ্যে শুধু জামাত পেয়েছে ৬৮টি আসন । আর ওই আসনগুলি মূলত পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । একদিকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার জামাত ইসলামির বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অস্বীকৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি ।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্তারিত পোস্ট করেছেন শুভেন্দু । ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন,সমগ্র বিশ্ব যখন ঢাকার শাসন পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে, তখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে এক গুরুতর রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠেছে ।’ তিনি লিখেছেন,’বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬৮টি আসনে জামাত এ ইসলামী জয়লাভ করেছে, যা সাতক্ষীরা থেকে রংপুর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার বিপরীতে অবস্থিত। শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগের কৌশলগত জীবনরেখা। এই অঞ্চলজুড়ে কোনো আদর্শিক সংহতি তৈরি হলে তা অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা এবং শক্তিশালী সীমান্ত পরিকাঠামোর দাবি রাখে।’
এরপর তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে নিশানা করে তিনি লিখেছেন,’তবুও ভারতীয় অংশে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে বারবার পূর্ণ সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে।এমনকি মাননীয় কলকাতা হাইকোর্টও রাজ্য সরকারকে সীমান্ত বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিলম্ব হওয়া উচিত নয়।’
বেশ কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজন :
★ বিএসএফের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা। ★ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা। ★ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। ★ ভোটব্যাংক রাজনীতি নয়, নিরাপত্তা কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা।’
তিনি বলেছেন,’শুধুমাত্র বিজেপি সরকার, অর্থাৎ “ডবল ইঞ্জিন” সরকারই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারে। ২০২৬ সালে অন্য কোনো ফলাফল এবং সীমান্তের ওপারে উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের উত্থান অবৈধ অনুপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করবে এবং তথাকথিত “বৃহত্তর বাংলাদেশ”এর ধারণাকে শক্তিশালী করবে। পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাই ভারতের নিরাপত্তা।’
প্রসঙ্গত,ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্য দখলের স্বপ্ন দেখে । জামাত ইসলামি সহ বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি । শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে নিয়ে তারা গ্রেটার বাংলাদেশ গঠনের ডাক দিয়েছে বহুবার । বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অথবা এনসিপির দক্ষিণাংশের মূল সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ গত বছরের ডিসেম্বরে সেদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের এক বিক্ষোভ সভায় হুমকি দিয়ে বলেছিল, ভারত যদি বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে উত্তরপূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স অথবা সাত রাজ্যকে নিশানা বানাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশ থেকে সাহায্য করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এর হুমকি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় ৷ গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশী উগ্র ইসলামি নেতা শরীফ উসমান হাদি ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরি করার জন্যে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল দখল করে নেবার জন্যে সওয়াল করেছিল । পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাত আততায়ীরা ঢাকা শহরেই তাকে গুলি করে এবং তার এক সপ্তাহ পর মারা যায় হাদি।
তার আগে ওই বছরের ৩১ মার্চ একই কায়দায় বাংলাদেশের বর্তমান মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস চীন সফরকালে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে ল্যান্ডলকড অর্থাৎ চারদিক থেকে ভূমি দিয়ে ঘেরা বলে মন্তব্য করে বলেছিলেন, গোটা অঞ্চলে বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রের রক্ষাকর্তা। বাংলাদেশে চিনা পুঁজি বিনিয়োগ করার জন্যে সেদেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের আহবান জানিয়েছিলেন। অক্টোবর মাসেই পাকিস্তানের শীর্ষ সেনানায়কদের একটি বই উপহার দিয়েছিলেন ইউনূস; সেই বইতে উত্তর পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশকে বাংলাদেশী ভূখণ্ডের অংশ বলে একটি মানচিত্রে দেখানো হয়েছিল।এরপর ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা ও প্রাক্তন বাংলাদেশ রাইফেলস প্রধান মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমান একটি বিতর্কিত মন্তব্য বলেছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত কোন সেনা অভিযান করলে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দখল করে নেওয়া উচিত বাংলাদেশের । যদিও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন,ভারতের চিকেন নেকের দিকে তাকালে বাংলাদেশের দুটি চিকেন বাংলাদেশে থেকে বিচ্ছিন্ন হবে৷ সুতরাং ভারতের চিকেন নেক দখলের স্বপ্ন দেখার আগে নিজের দেশ রক্ষা করুন।’।

