শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায় হলো “শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ” (২৮টি শ্লোক)। এই অধ্যায়ে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের শ্রদ্ধা, আহার, যজ্ঞ, তপস্যা ও দানকে সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক—এই তিন ভাগে ভাগ করে বর্ণনা করেছেন । মানুষ তার স্বভাবজাত শ্রদ্ধার অনুসারী হয়, যা তার অন্তঃকরণের প্রকৃতি নির্দেশ করে ।
ওং শ্রী পরমাত্মনে নমঃ
অথ সপ্তদশোঽধ্য়ায়ঃ ।
শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগয়োগঃ
অর্জুন উবাচ
যে শাস্ত্রবিধিমুত্সৃজ্য় যজংতে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ ।
তেষাং নিষ্ঠা তু কা কৃষ্ণ সত্ত্বমাহো রজস্তমঃ ॥ 1 ॥
শ্রীভগবানুবাচ
ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা ।
সাত্ত্বিকী রাজসী চৈব তামসী চেতি তাং শৃণু ॥ 2 ॥
সত্ত্বানুরূপা সর্বস্য শ্রদ্ধা ভবতি ভারত ।
শ্রদ্ধাময়োঽয়ং পুরুষো যো যচ্ছ্রদ্ধঃ স এব সঃ ॥ 3 ॥
যজংতে সাত্ত্বিকা দেবান্যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ ।
প্রেতান্ভূতগণাংশ্চান্যে যজংতে তামসা জনাঃ ॥ 4 ॥
অশাস্ত্রবিহিতং ঘোরং তপ্যংতে যে তপো জনাঃ ।
দংভাহংকারসংয়ুক্তাঃ কামরাগবলান্বিতাঃ ॥ 5 ॥
কর্ষয়ংতঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ ।
মাং চৈবাংতঃশরীরস্থং তান্বিদ্ধ্য়াসুরনিশ্চয়ান্ ॥ 6 ॥
আহারস্ত্বপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ ।
যজ্ঞস্তপস্তথা দানং তেষাং ভেদমিমং শৃণু ॥ 7 ॥
আয়ুঃসত্ত্ববলারোগ্যসুখপ্রীতিবিবর্ধনাঃ ।
রস্যাঃ স্নিগ্ধাঃ স্থিরা হৃদ্য়া আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ ॥ 8
কট্বম্ললবণাত্য়ুষ্ণতীক্ষ্ণরূক্ষবিদাহিনঃ ।
আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ ॥ 9 ॥
যাতয়ামং গতরসং পূতি পর্য়ুষিতং চ যত্ ।
উচ্ছিষ্টমপি চামেধ্য়ং ভোজনং তামসপ্রিয়ম্ ॥ 10 ॥
অফলাকাংক্ষিভির্যজ্ঞো বিধিদৃষ্টো য ইজ্যতে ।
যষ্টব্যমেবেতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ ॥ 11 ॥
অভিসংধায় তু ফলং দংভার্থমপি চৈব যত্ ।
ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্ ॥ 12 ॥
বিধিহীনমসৃষ্টান্নং মংত্রহীনমদক্ষিণম্ ।
শ্রদ্ধাবিরহিতং যজ্ঞং তামসং পরিচক্ষতে ॥ 13 ॥
দেবদ্বিজগুরুপ্রাজ্ঞপূজনং শৌচমার্জবম্ ।
ব্রহ্মচর্যমহিংসা চ শারীরং তপ উচ্যতে ॥ 14 ॥
অনুদ্বেগকরং বাক্যং সত্যং প্রিয়হিতং চ যত্ ।
স্বাধ্যায়াভ্যসনং চৈব বাঙ্ময়ং তপ উচ্যতে ॥ 15 ॥
মনঃ প্রসাদঃ সৌম্যত্বং মৌনমাত্মবিনিগ্রহঃ ।
ভাবসংশুদ্ধিরিত্য়েতত্তপো মানসমুচ্যতে ॥ 16 ॥
শ্রদ্ধয়া পরয়া তপ্তং তপস্তত্ত্রিবিধং নরৈঃ ।
অফলাকাংক্ষিভির্য়ুক্তৈঃ সাত্ত্বিকং পরিচক্ষতে ॥ 17 ॥
সত্কারমানপূজার্থং তপো দংভেন চৈব যত্ ।
ক্রিয়তে তদিহ প্রোক্তং রাজসং চলমধ্রুবম্ ॥ 18 ॥
মূঢগ্রাহেণাত্মনো যত্পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ ।
পরস্যোত্সাদনার্থং বা তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥ 19 ॥
দাতব্যমিতি যদ্দানং দীযতেঽনুপকারিণে ।
দেশে কালে চ পাত্রে চ তদ্দানং সাত্ত্বিকং স্মৃতম্ ॥ 20 ॥
যত্তু প্রত্ত্য়ুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ ।
দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্ ॥ 21 ॥
অদেশকালে যদ্দানমপাত্রেভ্যশ্চ দীয়তে ।
অসত্কৃতমবজ্ঞাতং তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥ 22 ॥
ওং তত্সদিতি নির্দেশো ব্রহ্মণস্ত্রিবিধঃ স্মৃতঃ ।
ব্রাহ্মণাস্তেন বেদাশ্চ যজ্ঞাশ্চ বিহিতাঃ পুরা ॥ 23 ॥
তস্মাদোমিত্য়ুদাহৃত্য় যজ্ঞদানতপঃক্রিয়াঃ ।
প্রবর্তংতে বিধানোক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্ ॥ 24 ॥
তদিত্যনভিসংধায় ফলং যজ্ঞতপঃক্রিয়াঃ ।
দানক্রিয়াশ্চ বিবিধাঃ ক্রিয়ংতে মোক্ষকাংক্ষিভিঃ ॥ 25
সদ্ভাবে সাধুভাবে চ সদিত্য়েতত্প্রয়ুজ্যতে ।
প্রশস্তে কর্মণি তথা সচ্ছব্দঃ পার্থ যুজ্যতে ॥ 26 ॥
যজ্ঞে তপসি দানে চ স্থিতিঃ সদিতি চোচ্যতে ।
কর্ম চৈব তদর্থীয়ং সদিত্য়েবাভিধীয়তে ॥ 27 ॥
অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতং চ যত্ ।
অসদিত্য়ুচ্যতে পার্থ ন চ তত্প্রেপ্য নো ইহ ॥ 28 ॥
।। ওং তত্সদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষত্সু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগয়োগো নাম সপ্তদশোঽধ্যায়ঃ ॥
সপ্তদশ অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু:
শ্রদ্ধার স্বরূপ: মানুষের শ্রদ্ধা নিজ নিজ অন্তঃকরণের অনুরূপ হয়, যা তিন প্রকার (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) ।
আহার ও গুণ: আহারও তিন প্রকার—সাত্ত্বিক (আয়ু, বুদ্ধি, বলবর্ধক), রাজসিক (তিক্ত, অম্ল, লবণাক্ত) ও তামসিক (বাসি, অপবিত্র) ।
যজ্ঞ, তপস্যা ও দান: ফলের আকাঙ্ক্ষা না রেখে করা যজ্ঞ সাত্ত্বিক, অহংকারযুক্ত হলে রাজসিক, এবং শাস্ত্ৰবিধিহীন হলে তামসিক । তপস্যা (শরীর, মন ও বাক্য) এবং দানও এই তিন ভাগে বিভক্ত ।
ওঁ তৎ সৎ: এই অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে যে, ‘ওঁ তৎ সৎ’—এই তিন প্রকার নির্দেশক বাক্য দ্বারা ব্রহ্ম বা পরমাত্মাকে স্মরণ করে যজ্ঞ, দান ও তপস্যার কর্ম সম্পাদিত করতে হয় ।
সপ্তদশ অধ্যায় (শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ) শ্লোকসমূহ:
এই অধ্যায়ে অর্জুন জানতে চান যে, যারা শাস্ত্রবিধি উপেক্ষা করে পূজা করে, তাদের নিষ্ঠা কী? শ্রীভগবান তিন প্রকার শ্রদ্ধার কথা বলেন । এরপর আহার, যজ্ঞ, তপস্যা ও দানের বিভাগগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

