এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১০ ফেব্রুয়ারী : চেক বাউন্স মামলায় বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের কারাদণ্ডের পর অভিনেতা সোনু সুদ তার সমর্থনে কথা বলেছেন এবং তার এই কঠিন সময়ে চলচ্চিত্র শিল্পকে একসাথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নোট শেয়ার করে, সোনু ভারতীয় চলচ্চিত্রে রাজপালের অবদান তুলে ধরেছেন এবং সহানুভূতির চেয়ে মর্যাদা এবং সম্মিলিত দায়িত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
সোনু সুদ এক্স-এ লিখেছেন,’রাজপাল যাদব একজন প্রতিভাবান অভিনেতা যিনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে বছরের পর বছর অবিস্মরণীয় কাজ উপহার দিয়েছেন। কখনও কখনও জীবন অন্যায্য হয়ে ওঠে, প্রতিভার কারণে নয়, বরং সময় নির্মম হয়ে যায় বলে । তিনি আমার ছবির অংশ হবেন, এবং আমি বিশ্বাস করি এটি আমাদের সকলের জন্য… প্রযোজক, পরিচালক, সহকর্মীদের একসাথে দাঁড়ানোর মুহূর্ত। ভবিষ্যতের কাজের সাথে সামঞ্জস্যযোগ্য একটি ছোট চুক্তির পরিমাণ দানশীলতা নয়, এটি মর্যাদা। যখন আমাদের নিজস্ব কেউ একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ইন্ডাস্ট্রির উচিত তাকে মনে করিয়ে দেওয়া যে তিনি একা নন। এইভাবে আমরা দেখাই যে আমরা কেবল একটি ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও বেশি কিছু।’
হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্বীকৃত কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব বৃহস্পতিবার দিল্লির তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। দিল্লি হাইকোর্ট আড়াই কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় তাকে অব্যাহতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য তার আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে, যার ফলে অভিনেতার আর কোনও পথ খোলা ছিল না ।
সাংবাদিককে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে রাজপাল নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেছিলেন,”স্যার, কেয়া করু ? বাপস করনে কি মেরে পাস পায়সা নেহি হ্যায় (স্যার, কী করব? ফেরত দেওয়ার মতো টাকা আমার কাছে নেই)। আউর কোন উপায় নেই দেখতা (অন্য কোনও উপায় দেখতে পাচ্ছি না) ।”
পরিচালক প্রিয়দর্শন সহ বছরের পর বছর ধরে তাঁর সাথে কাজ করা প্রভাবশালী সহকর্মীদের সাথে কেন যোগাযোগ করেননি জানতে চাইলে রাজপাল অকপটে উত্তর দেন,”স্যার, আমরা সবাই এখানে একা । কোনও বন্ধু নেই। আমাকে এই সংকট নিজেই মোকাবেলা করতে হবে।’ রাজপাল যাদব কয়েক দশক ধরে হিন্দি সিনেমার একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা, যিনি কমেডি, নাটক এবং চরিত্রের মাধ্যমে স্মরণীয় অভিনয়ের জন্য পরিচিত।
উল্লেখ্য,৫ কোটি টাকা চেক বাউন্স মামলায় (নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১, ধারা ১৩৮) ট্রায়াল কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজপাল যাদব এবং তার স্ত্রীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে, কিন্তু হাইকোর্ট সাজা স্থগিত করেছে।রাজপাল যাদব বারবার সময় চেয়েছেন, কিন্তু টাকা দিতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত দিল্লি হাইকোর্ট তাকে ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, বিকেল ৪ টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় । নিরুপায় হয়ে তিনি তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন।।

