এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,২৫ মার্চ : ছেলে ‘জং বাহাদুর’ বাবা ‘মহম্মদ জব্বার’…একটা নয়, এমন অসংখ্য নজির সামনে এসেছে নেপাল সীমান্তবর্তী উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলায় । ফলে ভোটার খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে খোদ কম্পিউটার । বলরামপুর জেলার নেভাডা এবং ইতাহি আবদুল্লাহ গ্রামে এই রকম ভুড়ি ভুড়ি জালিয়াতি সামনে আসার পর ভোটার তালিকা মেলাতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটে যাচ্ছে প্রশাসনের । অভিযোগ উঠছে যে ভোটে জেতার জন্য এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও সমাজবাদী পার্টি মিলে এই ‘কুকর্ম’ করে রেখে দিয়েছে ।
এখানে ভোটার তালিকায় এমন সব নাম রয়েছে, যাদের ধর্ম এমনকি সিস্টেমও শনাক্ত করতে পারছে না। কিছু ক্ষেত্রে, মা হিন্দু এবং বাবা মুসলিম, আবার কিছু ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা এবং এলাকার জনবিন্যাস পরিবর্তন করার জন্য নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে লোক এনে ভুয়া ভোটার বানানো হয়েছিল । সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযোগকারী জাবিউল্লাহ চাঞ্চল্যকর কিছু নথি পেশ করেছেন। ভোটার তালিকায় ‘জং বাহাদুর’ নামের এক ব্যক্তির বাবার নাম ‘মোহাম্মদ জব্বার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একইভাবে, রামনাথ চৌহানের বাবার নামও মহম্মদ জব্বার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, গ্রামবাসীদের মতে, গ্রামে ‘চৌহান’ নামে কোনো পরিবার বাস করে না। অভিযোগ উঠেছে যে, শুধুমাত্র ভোট নিশ্চিত করার জন্যই এই ভুয়া নামগুলো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল এবং নির্বাচনের পর এই ব্যক্তিরা উধাও হয়ে যায় ।
তদন্তে ১৫৬ ও ২১৭ নম্বর বাড়িতে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। ১৫৬ নম্বর বাড়িতে ৫০ জনেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার থাকলেও, বাড়ির মালিক দাবি করেন সেখানে মাত্র ৪-৫ জন থাকেন। আর ২১৭ নম্বর বাড়ির মালিক হলেন শহীদ আহমেদ, যিনি বর্তমান গ্রাম প্রধান এবং একজন দাগী অপরাধী। তার ঠিকানাতেও ৫০ জনেরও বেশি নাম নিবন্ধিত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান গ্রাম প্রধান এবং এসপি নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কারচুপি করার উদ্দেশ্যে একই পরিবারের কয়েক ডজন লোককে দুটি গ্রামসভার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বলরামপুরের এডিএম এই গুরুতর বিষয়ে ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি এসডিএমকে তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।স্থানীয়রা মনে করেছেন যে, এটি শুধু নির্বাচনী জালিয়াতিই নয়, বরং সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার ও অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত একটি বড় নিরাপত্তা হুমকিও বটে।।
