এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,০৮ জুন : ভিন রাজ্যে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে আসা মহিলাসহ ১৬ জন বাংলাদেশি আত্মসমর্পণ করল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় । রয়েছে বেশ কয়েকটি শিশুও ।এই ১৬ জন বাংলাদেশির প্রত্যেকের বাড়ি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় । ধৃতদের কোচবিহার জেলা আদালতে তোলা হলে ১৬ জনের মধ্যে দু’জনকে ১০ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজত এবং বাকিদের দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলি সঞ্জয় বর্মন বলেন,বাংলাদেশিদের ওই দলটি কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করল, এতে কোনও চোরাপথ বা পাচারচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, এদের সঙ্গে স্থানীয় কারও যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ জানতে চাইছে ।
জানা গেছে,বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ওই দলটি ১০ থেকে ১৫ বছর আগে বেআইনিভাবে কাঁটাতার টপকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়েছিল । তারপর তারা হরিয়ানা, দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যের ইট ভাটায় কাজে লেগে যায় । ইতিমধ্যে তাদের বেশ কয়েকটি সন্তানের জন্ম হয়ে যায় । কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের আগে থেকে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের নিজের নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু । বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপক ধরপাকড় চলছে । ফলে গ্রেপ্তারির ভয়ে ১৬ জনের দলটি সোজা কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে ।
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন,’পুলিশ আর সরকারি সমস্ত সংস্থা অবৈধ বাংলাদেশীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো কাজ করছে দেশজুড়ে। আজ প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি ১০ বছর ভারতবর্ষে অবৈধভাবে থাকার পর সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কোচবিহারে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের দেশে ফিরে যাচ্ছে। ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের আমরা অনুরোধ করব স্থানীয় তৃণমূল নেতা বা দালাল চক্রের কথায় কান না দিয়ে আপনারা সরকারকে জানান এবং সসম্মানে ফিরে যান নিজের দেশে।’।

