এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),০৭ মার্চ : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও সরকারী কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । পরিবর্তে তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরো কিছুদিন সময় চেয়েছেন । এদিকে আজ থেকে যুবসাথী প্রকল্পে দেড় হাজার করে দেওয়ার কথা কলকাতার ধর্মতলার ধর্ণা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । এর পিছনে ভোট ব্যাংকের কি রাজনীতি আছে তা আজ পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে ফাঁস করে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । পরিবর্তন সংকল্প সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, ‘মমতা ব্যানার্জি একটা হিসাব কষে রেখেছেন । রাজ্যে ৯ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক আছেন । আর ৮৫ লক্ষ আবেদন করেছে যুবসাথী প্রকল্পে । মমতা ব্যানার্জি হিসাব কষে দেখেছেন যে দেড় হাজার টাকা করে দিয়ে যদি কিছু ভোট পাওয়া যায় । একেবারে অংক কষে, এটা ভোটের অংক৷ এটার মধ্যে কোন সামাজিক দায়বদ্ধতা নাই । সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে ২০১৩ সালে স্টার্ট করা যুবশ্রী কর্মসূচির নাম বদল করতেন না । ২০২৩ সালে ১৭ লক্ষ আবেদনকারী যুবক-যুবতীকে পথে বসাতেন না।’
তিনি আরও বলেছেন,’মমতা ব্যানার্জি ২০১৬ সালের পর থেকে টাকা দেয়নি । বন্ধ করে দিয়েছিল । ভোট এসেছে বলে আবার দিচ্ছে । বিজেপি এই কাজ করে না । ২১ টা রাজ্যে বিজেপির সংকল্পপত্রে যা ছিল,সব সব কার্যকর করেছে ।’
প্রসঙ্গত,মঙ্গলকোটে অজয় নদের অবৈধ বালিঘাট আর বালি পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে । এই বিষয়ে শাসকদলের নেতা থেকে শুরু করে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে আসছে বিরোধী দলগুলি । আজ শুভেন্দুর বক্তব্যেও উঠে আসে অজয় নদের অবৈধ বালিঘাট আর বালি পাচারের প্রসঙ্গ । তিনি বলেন,’একটা ঘাট টেন্ডার কিনছে আর ৫০ টা অবৈধ ঘাট । ৮ কোটি ৫ লাখ টাকা করে তৃণমূলকে দেয় । এখানকার ওসি/আইসি-দের ২ কোটি টাকা দিয়ে পোস্টিং নিতে হয় । বালি এলাকা । কোন নদীর অস্তিত্ব নেই ।’ তিনি বলেন,’মানুষ সব জানে । শুধু মুক্ত কর ভয় । আমি দেখতে চাই হিন্দু বুথে যা পড়বে সব যেন এক জায়গায় পড়ে । দিল্লি, ইউপি, বিহার, উড়িষ্যা, হরিয়ানা পারলে আপনারা কেন পারবেন না ? আপনাদের এক হতেই হবে । বাকিটা উপরে মোদীজি গ্যারান্টার আর নিচে আমরা ছোট গ্যারান্টার ।’
কলকাতার ধর্মতলায় মমতা ব্যানার্জির ধর্ণা কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কার জন্য বসে আছেন ? বেকার যুবকদের জন্য? টাটাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ? নারী সুরক্ষার জন্য ? আরও এয়ারপোর্ট, আরো সিপোর্ট, আরো রেললাইন আরো নতুন কিছু করার জন্য ? না বন্ধু । বসে আছে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী মুসলমান আর রোহিঙ্গাদের জন্য । ধর্ণায় বসছেন কারণ এপ্রিল মাসের পর ওনাকের ধর্ণাতেই বসতে হবে । কারণ সবাই ঠিক করে ফেলেছেন বিজেপি আসছে । ব্রেকফাস্টে আটান্ন লাখ । লাঞ্চে ৭ লাখ । ৬০ লাখ ঝুলে আছে । কত যাবে কেউ জানে না । ভোটার তালিকা থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরিয়ে গেছে । বদ রক্ত বেরিয়ে গেছে। এবারে আমাদের সঙ্গে ওদের কোন তফাৎ নেই। চারিদিকে আওয়াজ উঠে গেছে বিজেপি আসছে, পরিবর্তন চাই ।’।

