এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,২৬ ফেব্রুয়ারী : গত বছর মালদার চাঁচল কলেজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের (টিএমসিপি) বিরুদ্ধে । ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজেপি । দাবি ওঠে অভিযুক্ত টিএমসিপি নেতাকে গ্রেপ্তারের৷ দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে নাসিমুল হক ওরফে এবি সোয়েল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । এখন সেই অভিযুক্তকেই শাসকদল মালদা জেলার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের “এক্সিকিউটিভ মেম্বার” করায় “বাঙালি অস্মিতা” রক্ষার কথা বলা তৃণমূলের “তোষণের রাজনীতি” নিয়ে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারী টিএমসিপি-এর রাজ্য সভাপতি প্রসূন রায়ের স্বাক্ষরিত তার লেটার প্যাডে মালদা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নব নির্বাচিত কমিটির তালিকাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী । যেখানে এবি সোয়েলকে “এক্সিকিউটিভ মেম্বার” করার বিষয়টি শবুজ কালি দিয়ে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি । শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’ ভোটব্যাংক-এর তোষণ ও তুষ্টিকরণ এর রাজনীতি > বাঙালি অস্মিতা ও মনীষীদের শ্রদ্ধা সম্মান৷
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর জন্য পুরস্কৃত করা হলো তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা ফৈয়াজ আলম কে !!! তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মালদা জেলার চাঁচল কলেজ ইউনিটের সদস্যরা তৎকালীন সভাপতি এ. বি. সোহেল এর নেতৃত্বে গত ২রা সেপ্টেম্বর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত করে বিশ্ববন্দিত নোবেলজয়ী কবি, বাঙালির গর্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয় !!!
বিশ্ববরেণ্য কবি তথা বাংলা বাঙালি ও সারা ভারতবর্ষের গর্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাবার পন্থা একমাত্র তৃণমূল অপ-সংস্কৃতিতেই সম্ভব !!!
এবার এক ধাপ পেরিয়ে এই অপকর্মের জন্য বিশেষ পদপ্রাপ্তি ঘটলো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা ফৈয়াজ আলম-এর। সংযুক্ত ভিডিওতে হাসিমুখে রবি ঠাকুরের ছবি পোড়াচ্ছে ফৈয়াজ আলম। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নতুন ঘোষিত জেলা কমিটিতে ৬ নম্বরে এক্সিকিউটিভ মেম্বার করা হয়েছে তাকে।
বাঙালি অস্মিতা, বাংলার মনীষীদের’র সম্মানের জিগির তুলে প্রায়শই জনগণকে বোকা বানানোর ব্যার্থ প্রচেষ্টা চালায় তৃণমূল। কিন্তু আদপে এদের রাজনৈতিক মূলধন হলো ভোটব্যাংক তোষণ ও এক শ্রেনীর সমাজ বিরোধীদের তোষামোদ করে রাখা হলো এদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি। যে ঘৃণ্য কাজের জন্য কোনো নিন্দা’ই যথেষ্ট নয়, সেই কাজের কান্ডারীদের পুরস্কৃত করা তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা।’
প্রসঙ্গত,গত বছর সেপ্টেম্বরে মেয়ো রোডে তৃণমূলের প্রতিবাদ মঞ্চ খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সেনার বিরুদ্ধে । এর প্রতিবাদে ওই বছর ৩১ আগস্ট মালদার চাঁচল কলেজে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে তাঁদের হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি ছিল। সেই ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি পোড়ানোর কর্মসূচি নেন তারা। বিক্ষোভের সময়ে ছাত্র পরিষদের নেতা নাসিমুল হক ওরফে এবি সোয়েল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতেও আগুন ধরিয়ে দেয় । মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
যদিও পরে চাঁচল থানায় দায়ের করা স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে নাসিমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । পুলিশের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, নাসিমুল হক ওরফে এবি সোয়েল মালদার চাঁচল নয়াটোলা এলাকার বাসিন্দা। ওই ঘটনার পরে স্থানীয় এক বাসিন্দা ১ সেপ্টেম্বর নাসিমুলের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, নাসিমুল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো-সহ কিছু বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্তে নেমে নাসিমুলকে গ্রেপ্তার করে।।

