এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৭ জানুয়ারী : শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরের প্রথম দিনেই শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় প্রস্তাবিত ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্দিরটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিব মন্দির হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি । নদীয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক সভা ও রাজনৈতিক সভায় তিনি উদাত্ত কন্ঠে বলেছিলেন “আমি ধর্মনিরপেক্ষ” । যাই হোক, ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতার মুখে “হর হর মহাদেব,রক্ষা কর মহাদেব” এবং “হর হর মহাকাল,রক্ষা কর মহাকাল”-এর মত শ্লোগান তার মুখ থেকে শুনতে পাওয়া যায় । তবে সফলভাবে মন্দির নির্মানের কাজ যাতে হয় সেজন্য তিনি মানুষের কাছে “দোয়া চাওয়া”র জন্য প্রার্থনা করলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাকে কটাক্ষ করেছেন । শুভেন্দুর কথায়, “মমতা ব্যানার্জির “শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা” ।
মমতার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি এক্স-এ শেয়ার করেছেন শুভেন্দু । সেখানে মমতাকে বলতে শোনা গেছে, “যখন শিলান্যাসটা হবে, মা-বোনেরা শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, দোয়া পড়বেন, কেউ বা শাস্রীকাল বলবেন,কেউ বা জয় জোহর বলবন, যার যা ইচ্ছা বলে একেবারে সুন্দরভাবে গ্রহন করবেন ।” একথা বলার সময় তিনি তার দু’হাত উপরে তুলে ঘড়ির দিকে অথবা ঘড়ির বিপরীত দিকে ঘোরাতে থাকেন । তবে মমতার “দোয়া চাওয়া”র বক্তব্যটা রিপ্লে করেছেন শুভেন্দু ।
এনিয়ে তিনি প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,’হিন্দুদের লজ্জা মমতা ! হিন্দুদের ভোটের খরা মেটাবার উদ্দেশ্যে নানান প্রচেষ্টা করছেন, কিন্তু ওনার নিজের মনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব কিছুতেই মিটছে না। শ্যাম রাখি না কুল রাখি এমন পরিস্থিতি তে ‘মহাকাল মন্দির’ এর শিলান্যাসের সময় ‘দোয়া’ করার আহবান জানাচ্ছেন !!! বাঙালি হিন্দুদের অভিধানে ‘দোয়া’ বলে কোনো শব্দ নেই। আপনি আসলে ভেকধারী হিন্দু, দু’নৌকায় পা দিয়ে চলার পরিণাম খুব শিগগিরই পাবেন, তখন হরিনাম করলেও পাপস্খলন হবে না…।”
এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে “হিন্দু বিরোধী” তকমা দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । বিশেষ করে পিতৃপক্ষে দুর্গাপূজার উদ্বোধন করা নিয়ে মমতাকে তিনি বারবার খোঁটা দেন । তারই প্রেক্ষিতে ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের শিলান্যাসের আগে মমতা বলেছিলেন,’কেউ ভাববেন না পঞ্জিকা দেখি না, পঞ্জিকা মেনেই শিলান্যাস করা হচ্ছে৷’
প্রসঙ্গত,আর হাতে গোনা কয়েক মাস পরেই এরাজ্যের বিধানসভার ভোট । প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের ঘটনা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি প্রভৃতি বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাকফুটে এরাজ্যের শাসকদল । তার উপর হুমায়ুন কবিরের “বাবরি মসজিদ” ইস্যু এবং হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক আসাউদ্দিন ওয়াইসির দলের এন্ট্রি মমতা ব্যানার্জির কার্যত রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে । একদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্রচার, অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের “বাবরি মসজিদ”-এর শিলান্যাসের পর রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিম ভোটের মধ্যে স্পষ্ট মেরুকরণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে । বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে । আর এই মেরুকরণ মমতার চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় আসার আকাঙ্খার উপর জল ঢেলে দিয়েছে । বিগত বিধানসভা ও লোকসভার ভোটে অনেক আসনে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে জয়লাভ করতে সক্ষম হলেও এবারে মুসলিম ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তাড়া করছে মমতাকে । তার উপর ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বিপুল সংখ্যায় ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনায় আরও চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে এরাজ্যের শাসকদলকে । তার মমতা হিন্দু ভোট টানতে ইদানিং মন্দিরে বেশি যাতায়াত করতে শুরু করেছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ । এখন দেখার বিষয় মমতার এই “সফট হিন্দুত্ব” কতটা তাকে ভোটের বৈতরণী পার করতে সাহায্য করে ।।

