শ্রী রাম পঞ্চ রত্ন স্তোত্রম্ (Sri Rama Pancha Ratna Stotram) হলো আদি শঙ্করাচার্য রচিত ভগবান রামের একটি পবিত্র পাঁচ-স্তবকের স্তোত্র, যা প্রতি শ্লোকের শেষে “নমোস্তু রামায়সলক্ষ্মণায়” (লক্ষ্মণসহ রামকে নমস্কার) বলে শেষ হয় । এই স্তোত্রে শ্রী রামের রূপ, গুণ এবং বীরত্ব বর্ণনা করা হয়েছে ।
কংজাতপত্রায়ত লোচনায় কর্ণাবতংসোজ্জ্বল কুণ্ডলায়
কারুণ্যপাত্রায় সুবংশজায় নমোস্তু রামায়সলক্ষ্মণায় ॥ ১ ॥
অর্থ: পদ্মপাতার মতো আয়ত লোচন, কানে উজ্জ্বল কুণ্ডল ধারণকারী, করুণার আধার এবং সুবংশে (রঘুবংশ) জাত লক্ষ্মণসহ রামচন্দ্রকে প্রনাম ।
বিদ্যুন্নিভাংভোদ সুবিগ্রহায় বিদ্যাধরৈস্ সংস্তুত সদ্গুণায়
বীরাবতারয় বিরোধিহর্ত্রে নমোস্তু রামায়সলক্ষ্মণায় ॥২
অর্থ: বিদ্যুতের মতো কান্তিযুক্ত, বিদ্যাধরদের দ্বারা প্রশংসিত, বীর অবতার এবং শত্রুদের সংহারকারী লক্ষ্মণসহ রামচন্দ্রকে প্রনাম ।
সংসক্ত দিব্যায়ুধ কার্মুকায় সমুদ্র গর্বাপহরায়ুধায়
সুগ্রীবমিত্রায় সুরারিহংত্রে নমোস্তু রামাযসলক্ষ্মণায় ॥ ৩ ॥
অর্থ: দিব্য ধনুক-ধারি, সমুদ্রের গর্ব হরণকারী, সুগ্রীবের মিত্র এবং দেবতাদের শত্রুদের (রাক্ষস) বিনাশকারী লক্ষ্মণসহ রামচন্দ্রকে প্রনাম ।
পীতাম্বরালংকৃত মধ্যকায় পিতামহেংদ্রামর বন্দিতায়
পিত্রে স্বভক্তস্য জনস্য মাত্রে নমোস্তু রামায়সলক্ষ্মণায় ॥ ৪ ॥
অর্থ: পীতাম্বর (হলুদ বস্ত্র) পরিহিত, ব্রহ্মা ও ইন্দ্রের দ্বারা বন্দিত, এবং ভক্তদের মাতা-পিতার মতো পালনকারী লক্ষ্মণসহ রামচন্দ্রকে প্রনাম।।
নমো নমস্তে খিল পূজিতায় নমো নমস্তেংদুনিভাননায়
নমো নমস্তে রঘুবংশজায় নমোস্তু রামায়সলক্ষ্মণায় ॥৫ ॥
অর্থ: সর্বজন পূজিত, চন্দ্রবদন (চাঁদের মতো সুন্দর মুখ), রঘুবংশীয় বীর, লক্ষ্মণসহ রামচন্দ্রকে বারবার প্রনাম ।
ইমানি পঞ্চরত্নানি ত্রিসন্ধ্যাং যঃ পঠেন্নরঃ
সর্বপাপ বিনির্মুক্তঃ স যাতি পরমাং গতিম্ ॥
অর্থ : প্রতিদিন সকালে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় এই স্তোত্র পাঠ করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং পরম পদ প্রাপ্ত হয় ।
।। ইতি শ্রীশঙ্করাচার্য় বিরচিত শ্রীরামপঞ্চরত্নং সংপূর্ণং ।।
