প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান,১২ ফেব্রুয়ারী : পরীক্ষার ঠিক কয়েক ঘন্টা আগেই এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর উপর নৃশংস বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি শেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাই ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে । খণ্ডঘোষের বোঁয়াই গ্রামের বাসিন্দা দীপক অধিকারীর ছেলে আস্তিক অধিকারীকে প্রথমে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি মারে ওই তৃণমূল নেতা ও তার বাহিনী । তারপর ছেলেটিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় পুকুরের জলে । জানা গেছে, আক্রান্ত কিশোর খণ্ডঘোষ সংলগ্ন বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের আকুই হাই স্কুলের কলা বিভাগের ছাত্র। এবারে সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ৷ তারভসিট পড়েছে কয়েক কিলোমিটার দূরে শাসপুর হাই স্কুলে ।
আস্তিক অধিকারী বলেন,’যে ভাবে আমাকে চ্যাংদোলা করে তুলে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় তাতে আমার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারতো। বাড়ির লোকজন দ্রুত আমাকে পুকুর থেকে তুলে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান বলে রক্ষা পেয়ে গিয়েছি। তবুও ভয় না পেয়ে আমি ও আমার বাবা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। নিরাপদে সুষ্ঠ ভাবে আমি যাতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যেতে পারি,তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধও জানাই ।’ এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা শেখ সাহাদ আলিরসহ তার দলের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বুধবার খণ্ডঘোষ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন দীপক অধিকারী । যদিও আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারির কোনো খবর নেই । এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) অভিষেক মণ্ডল অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করে জানান, বুধবার বিকালে থানায় অভিযোগ দায়ের হবার পরেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে । এদিকে বিজেপি বলছে যে এলাকায় শেখ সাহাদ আলির যা দাপট, তাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের স্পর্ধা দেখাবে বলে মনে হয়না ।
কিন্তু এক নিরপরাধ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর উপর কেন এই হামলা ?
এর উত্তরে জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘সম্প্রতি বোঁয়াইয়ে আয়োজিত বিজেপির একটি কর্মসূচিতে আস্তিকের পরিবার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল । সেই কারনে তাদের বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি শেখ সাহাদ আলির রোষের মুখে পড়তে হয়েছে । কিন্তু একজন নিরপরাধ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে শেখ সাহাদ আলি ও তার দলবল নৃশংসভাবে মেরেছে,তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই ।
জানা গেছে,হামলার বোঁয়াই গ্রামের বাসিন্দা দীপক অধিকারীর একটি মুদিখানা দোকান আছে । বুধবার সকালে দোকানে বসে দোকানদারির পাশাপাশি পড়াশোনা করছিলেন আস্তিক । সকাল ১১টা নাগাদ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ সাহাদ আলির নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটা দল দোকানে চড়াও হয় বলে জানান দীপক৷ তিনি বলেন,’তখন আস্তিক দোকানের ভিতর ছিল। শেখ সাহাদ আলির ছেলেকে দোকান বন্ধ করতে বলে। দোকান কেন বন্ধ করবো?এই প্রশ্ন করা হতেই শেখ সাহাদ আলি ও তার দলবল লাথি মেরে আস্তিককে মাটিতে ফেলে দেয়। তাকে ব্যাপক মারধর করে । আস্তিক কোন রকমে উঠে দাঁড়ালে শেখ সাহাদ আলি ও তার দলবল প্রথমে আস্তিকের হাত মুচড়ে দেয়। তারপরে আস্তিককে তারা পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এই ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে শেখ সাহাদ আলিরা আমার দোকানের মালপত্র নষ্ট করে দেয়।যাওয়ার সময় ‘চার দিন পর ফের আসছি’ বলে হুমকিও দিয়ে যায় ।’
এদিকে বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় পড়ে গেছে জেলা জুড়ে৷ বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,’লকাইয়ের অত্যাচার এখন সব সীম ছাড়িয়ে গিয়েছে। লকাইয়ের অত্যাচারে খণ্ডঘোষের বেরুগ্রাম অঞ্চলের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে । পুলিশ মামলা রুজু হওয়ার কথা বললেও শেখ সাহাদ আলিকে পুলিশ আদপেই গ্রেপ্তার করার স্পর্ধা দেখাতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে ।’
যদিও অভিযুক্ত বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি শেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেন,’আমাদের নাম জড়িয়ে দিলে আমাদের কী আর করার আছে।’ অন্যদিকে তৃণমূলের খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলামর বলেন,’ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ আছে বলে আমার জানা নেই।’ খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ অবশ্য সাফ জানিয়ে দেন,’অভিযোগ সত্যি হলে,ভোটের মুখে দলের ভাবমূর্তি খুন্ন হবে।’।
