প্রদীপ চট্টোপাধ্যার,বর্ধমান,২৫ জানুয়ারী : হাটে ফলের সাথে ’জাল লটারি’ টিকিটের পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসে বিক্রি করছিলেন এক ব্যবসায়ী । সেই খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর হাটে হানা দিয়ে প্রচুর জাল লটারি টিকিট সহ ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে জেলার এনফোর্সমন্ট ব্রাঞ্চ(DEB)। ধৃতের নাম গদাই বালা। তাঁর বাড়ি মেমারি থানা এলাকায়। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসারদের দাবি,ধৃত গদাই বালা জাল লটারি টিকিট বিক্রির একটা চক্র চালাতেন।তার কাছ থেকে এদিন প্রচুর জাল লটারি টিকিট উদ্ধার হয়েছে।যার বাজারি মূল্য প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা । সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে রবিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন বলে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররা জানিয়েছেন।
রাজ্যের জেলায় জেলার সক্রিয়তা বাড়িয়েছে জাল লটারি টিকিট বিক্রি চক। বাদ যায়নি পূর্ব বর্ধমান জেলার। জাল লটারি টিকট বিক্রি রোখার দাবিতে জামালপুরের লটারি টিকিট বিক্রেতারা বারে বারে থানার দ্বারস্থ হয়েছে।এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ থেকে শুরু করে পুলিশ,সিআইডি সকলেই জাল লটারি টিকিটের কারবারিদের জালে পোরার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি রায়না ও জামালপুরে অভিযান চালিয়ে সিআইডি কয়েকজন জাল লটারি টিকিট বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছিল।তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রচুর জাল লটারি টিকিট সিআইডি বাজেয়াপ্তও করেছিলো। এতকিছুর নিজেকে শোধরাননি গদাই বালা। অভিযোগ,তিনি বজামালপুর গঞ্জ বারোয়ারি পরিচালিত হাটে বসে ফল বিক্রির আড়ালে “খুল্লাম খুল্লা’ জাল লটারিরষ টিকিট বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
জামালপুরের হাটে বসে গদাই বালার জাল লটারি টিকিট বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পাার পর থেকেই প্রতিবাদে সরব হন একটি লটারি সংস্থার জামালপুরের সাব স্টকিস্ট পার্থ রায়।তিনি বলেন, ’হাটে বসে দিনে দুপুরে “জাল“ লটারি টিকিট বিক্রি বন্ধের কথা আমি গদাই বালাকে অনেকবার বলে ছিলাম।কিন্তু তিনি আমার নিষেধ শোনেন নি। উল্টে হুমকির সুরেই তিন বলে দেন,’কেউ আমার কিছু করতে পারবে না’। এমনকি তাাঁর সঙ্গে সঙ্গত দিয়ে আরো ৫০ জন যে জাল লটারি টিকিট বিক্রি চালাচ্ছেন ,সেই কথাও গদাই বালা দর্পের সঙ্গে হাটে বসে জানিয়ে দেন। পার্থ রায় বলেন,’এইসব হুুমকির কথা শোনার পর তিনি আর কথা না বাড়িয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক অফিসার বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে গদাই বালা দীর্ঘদিন ধরে ’জাল’ লটারি টিকিটের কারবার চালাচ্ছেন। জাল লাটারির টিকিটেড় কারবার চালানোর জন্য তিনি একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। এই চক্রে জড়িতদের সন্ধান পেতে রবিবার গদাই বালাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন জানানো হবে। গোটা চক্রটিকে জালে পোরা গেলে “জাল“ লটারি টিকট বিক্রি কাণ্ডের বড়সড় পর্দা ফাঁস হবে বলেই এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররা মনে করছেন৷।
