এইদিন ওয়েবডেস্ক,১১ জানুয়ারী : উত্তরপ্রদেশের আগ্রা থেকে এমন একটা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা মানবতাকে লজ্জায় ফেলে দেবে । দাবি করা হচ্ছে যে সাকিনা খান নামে এক তরুণী অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিবার তাঁকে জোর করে নিজেরই ভাইয়ের সঙ্গে নিকাহ করাতে চেয়েছিল । যা একদিকে যেমন ভাই-বোনের মত পবিত্র সম্পর্কের জন্য এই চিন্তা অত্যন্ত ঘৃণ্য হিসাবে পরিচিত হয় সমাজে । পাশাপাশি এটা আইনবিরুদ্ধও । বলা হচ্ছে যে সেই অমানবিক ও অবৈধ চাপ থেকে বাঁচতে সাকিনা খান তার প্রতিবেশী সোনু যাদবকে তার সমস্যার কথা জানান। সোনু তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন । পরে সোনুর হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে সাকিনা একটি মন্দিরে গিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছেন । ধর্মান্তরের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে সোনম যাদব।
ঘটনাটি অনু ক্রিয়েট ডট ইন(@Imdead_108) এক্স-এ শেয়ার করা হয়েছে । পোস্টে লেখা হয়েছে,এটি কেবল প্রেমের বিয়ে ছিল না, বরং জোরপূর্বক বিবাহ এবং খারাপ ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেও একটি অবস্থান ছিল।সাকিনার সিদ্ধান্ত দেখায় যে কাউকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা উচিত নয় যা তারা করতে চায় না।সে অন্য মুসলিম মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণা যারা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে চায়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সাকিনার উপর পারিবারিক ও সামাজিক চাপ বাড়ছিল। পরিবারের কিছু সদস্য ধর্মীয় রীতির অজুহাতে তাঁকে এমন এক সম্পর্কে বাধ্য করতে চাইছিলেন, যা তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং নিজের ইচ্ছায় নতুন জীবন বেছে নেন।মন্দিরে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাটি ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। ছবিতে দেখা যায়, সোনম যাদব হিন্দু রীতিতে মঙ্গলসূত্র ও সিঁদুর গ্রহণ করছেন। অনেকেই এটিকে নারীর সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দমনমূলক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে হিন্দু সমাজের বড় একটি অংশ সাকিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এটি একদিকে নারীর স্বাধীনতার জয়, অন্যদিকে এমন এক ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান, যেখানে নারীর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, একাধিক সামাজিক কর্মী বলেন,’কোনও নারী যদি নিজের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য ধর্ম ও জীবন বদলাতে বাধ্য হন, তবে সেই সমাজের ভেতরের অসুখকে আগে চিহ্নিত করা জরুরি।’ তবে দম্পতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অতীতে আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে হুমকি, সামাজিক বয়কট ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতে সোনম ও সোনুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা দাবি করছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নজরে রেখেছে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আইনজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারী যদি স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেন, তা পুরোপুরি আইনসম্মত। তবে যদি পরিবারের তরফে জোর করে ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সত্য হয়, তাহলে তা গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে এবং দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে বলছেন, আগ্রার এই ঘটনা কেবল একটি বিয়ের গল্প নয়। এটি নারী স্বাধীনতা, মানবাধিকার, ধর্মীয় পরিচয় এবং সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।।

