গতকাল সকালে তেহেরানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খোমেনিকে হত্যা করেছে মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান বাহিনী । বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহ ৷ আকাশে ঘনঘন ছুটে যাচ্ছে যুদ্ধবিমান আর ব্যালেস্টিক মিশাইল । তবে ইরানের প্রতিবেশী কাতার, সৌদি আরব, ইউএই, তুর্কি প্রভৃতি ইসলামি রাষ্ট্রগুলি খোমিনির হত্যার পর সেভাবে সোচ্চার না হলেও,ভারতের মুসলিমরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের মুণ্ডুপাত করতে রাস্তায় নেমে পড়েছে৷ জম্মু- কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে শুরু করে ইউপির লখনউ,সর্বত্র মুসলিমরা রাস্তায় নেমে ক্ষোভ ও শোক পালন করছে । সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বোরখা পরা মহিলাদের হাপুস নয়নে কাঁদতে পর্যন্ত দেখা গেছে । কিন্তু এদেরই পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হওয়া বা জম্মুতে সন্ত্রাসীরা হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নির্বিচারে হত্যার পর রাস্তায় নেমে কান্না তো দূর,অধিকাংশ জনকে নিন্দা জানাতে পর্যন্ত শোনা যায়নি । যেকারণে ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউ মেক্সিকোর রোজওয়েলের ভিজ্যুয়াল শিল্পীদের এক প্রখ্যাত সংস্থা রোজওয়েল আর্টিস্ট-ইন- রেসিডেন্স প্রোগ্রামের (RAiR) প্রতিষ্ঠাতা ও এডিওর-ইন- চিফ অ্যামি মেক(Amy Mek) । তিনি শ্রীনরের লাল চকে রাস্তা অবরোধ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ ও শোক পালনের একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে । পাশাপাশি একটা “ভারতীয় মুসলিম”-দের নিয়ে একটা বড়সড় পোস্টও করেছে৷
অ্যামি মেক লিখেছেন,ইসলামিকৃত ভারত – এমন কোন জাতি নেই যেখানে ইসলাম জয় করার চেষ্টা করছে না। হাজার হাজার কাশ্মীরি শ্রীনগরের প্রতীকী কেন্দ্র লাল চক দখল করে, ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তা বন্ধ করে, কালো পতাকা উত্তোলন করে, মৃত ইরানি অত্যাচারী খামেনির প্রতিকৃতি প্রদর্শন করে, মাতামে বুকে চাপড় মারে, এবং “আমেরিকার মৃত্যু” + “ইসরায়েলের মৃত্যু” বলে চিৎকার করে।
ভারতের সাথে কোনও সম্পর্ক ছিল না এমন একজন বিদেশী শিয়া আয়াতুল্লাহর জানাজার নামাজের জন্য। কোথায় ছিল সেই একই উগ্র সমাবেশ যখন:
★ পুলওয়ামায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যা করা হয়েছিল?
★ জম্মুতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের হত্যা করা হয়েছিল?
★ উপত্যকা থেকে জাতিগতভাবে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্মূল করা হয়েছিল?
★ জাতিগতভাবে ভারতীয় সৈন্যরা দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে মারা যায়?
কোথাও নেই। সম্পূর্ণ নীরবতা। কোন ভিড় নেই, কোন বন্ধ নেই, কোন ক্রোধ নেই। কিন্তু তেহরান ডাকছে? রাতারাতি রাস্তাগুলি অচল হয়ে পড়েছে। উম্মাহর আনুগত্য সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। এটি পাঠ্যপুস্তক বিজয়ের খেলার বই:
★ সংখ্যা দিয়ে জনসাধারণের জন্য বন্যা
আধিপত্য প্রদর্শনের জন্য স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করুন৷
★ বিদেশী আনুগত্য জোরে প্রচার করুন ।
★ প্রশ্ন করা হলে “ভুক্তভোগী” বলে চিৎকার করে ব্যাঘাতকে স্বাভাবিক করুন ।
এটি প্রতিটি অমুসলিম দেশে ঘটছে – ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত। ধীরে ধীরে অনুপ্রবেশ, তারপর প্রকাশ্যে নমন। বামপন্থী এবং উদারপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত “শান্তিপূর্ণ সংখ্যালঘু” আখ্যান? সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি ইসলামীকরণের কাজ: ইঞ্চি ইঞ্চি, রাস্তা থেকে রাস্তায় অঞ্চল দাবি করুন। ভারত রক্তাক্ত হচ্ছে যখন তার নিজস্ব মাটির কিছু অংশ তার শহীদদের জন্য বিদেশী অত্যাচারীদের উল্লাস করছে। লাল চক প্রতিটি চৌকিতে পরিণত হওয়ার আগে জেগে উঠুন।’।
