এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ জানুয়ারী : মালদহ জেলার পাণ্ডুয়ার “আদিনা মসজিদ” নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের । মসজিদটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দার শাহ কর্তৃক নির্মিত, যা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম। তবে, এর স্থাপত্যে হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ও কারুকার্য স্পষ্ট থাকায় এটি সুপ্রাচীন আদিনাথ মন্দির ভেঙে নির্মান করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয় । এনিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে । অবশেষে এই বিতর্ক আদালতে তুললেন বিজেপি নেতা ও সিংহবাহিনী নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দেবদত্ত মাঝি । তিনি আদিনাথ মন্দির পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে প্রখ্যাত পিতাপুত্র আইনজীবী শঙ্কর জৈন ও শঙ্কর জৈনের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে ।
দেবদত্ত মাঝি গত ১৯ জানুয়ারী এক্স-এ লিখেছেন,হর হর মহাদেব । ভগবান শিবের আশীর্বাদে, আমাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।।আজ, পশ্চিমবঙ্গের মালদহে অবস্থিত আদিনাথ মন্দির পুনরুদ্ধারের জন্য আমার আবেদনটি কলকাতা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে । পূণ্যার্থী অ্যাডভোকেট শ্রী হরি শঙ্কর জৈন জি এবং আমি, পূণ্যার্থী অ্যাডভোকেট শ্রী বিষ্ণু জৈনজি দ্বারা দাখিল করা হয়েছে। আজ বিষয়টির শুনানি হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।’ তিনি আরও লিখেছেন,’আমরা আইনি প্রক্রিয়া এবং মহাদেবের ঐশ্বরিক ইচ্ছার উপর আমাদের বিশ্বাস রাখি। সত্যের জয় হোক এবং আমাদের পবিত্র স্থানটি তার পূর্বের মহিমা ও গৌরবে পুনরুদ্ধার হোক।’
এর আগে গত ডিসেম্বরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় জানান যে আদিনা মসজিদ একসময় আদিনাথ মন্দির ছিল। সেখানে হিন্দু ধর্মের স্থাপত্যও আছে। সেগুলিকে সংরক্ষণ করা উচিত। শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “কোনও মন্দির-মসজিদের লড়াই নয়। কোনও হিন্দু-মুসলমানের বিভাজনের বিষয় নয়। কিন্তু, কী ঘটেছিল ? মালদা জেলার পাণ্ডুয়ায় ব্রিটিশদের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন জিতু সান্থাল। ওঁর লক্ষ্য এটাই ছিল যে, সন্ন্যাসীর দলের সাহায্যে আদিনাথ মন্দির পুনরুদ্ধার করবেন। আর আজ কী হচ্ছে ! এটা ঐতিহাসিক তথ্য, প্রখ্যাত ওরিয়েন্টালিস্ট (প্রাচ্যবিদ) জে ডি বিগলার, মালদার কালেক্টর জে এইচ রবিন শাহ ১৮৬৫ থেকে ১৮৬৭ সালে তাঁরা… বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ নথিভুক্ত করেছিলেন, যে তথ্য দাবি করে যে সেখানে হিন্দু মন্দির ছিল।”
রাজয়সভায় জিরো আওয়ারে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, সেখানে তিনি লিখেছেন, আমি মালদার পাণ্ডুয়ায় ঐতিহ্যবাহী স্থান নিয়ে জরুরিভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যেটি সাধারণত আদিনা মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এখানে প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরের উপাদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনে থাকা স্মৃতিসৌধ কয়েক দশক ধরে আংশিক অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রীয় সরকারে কাছে কিছু দাবিদাওয়া রেখেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেই সঙ্গে হুমাযুন কবীরের প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদে’রও বিরোধিতা করেছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখার সময় তাঁর বিরোধিতা করেন তৃণমূল সাংসদরা।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই ভাবে কতদিন চলতে পারে ! আমরা ইতিহাসকে মুছে দিতে পারি না। আমরা আমাদের রীতি-নীতি, সংস্কারকে ত্যাগ করতে পারি না। কিন্তু, এটাই পশ্চিমবঙ্গে হয়ে আসছে। এখন সেখানে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করার তোড়জোড় চলছে। আর আদিনা মসজিদ নয়, ওটা আদিনাথ মন্দির। এর ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। এ এস আই -এর নথি রয়েছে। আর সেটা (মন্দির পুনরুদ্ধার) করতে দেওয়া উচিত। সেটির উপর গবেষণা হওয়া উচিত। সমস্ত হিন্দু সংস্কৃতির প্রমাণ রয়েছে। পদ্মফুল, জনিপীঠ, শিবলিঙ্গ, লক্ষ্মী ঠাকুরের হাত,সব মুছে ফেলা হচ্ছে। সেটা বন্ধ করা উচিত। সরকারের কাছে আমাদের আর্জি, সেটাকে রক্ষা করা উচিত।”

