এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২২ জানুয়ারী : ফের এরাজ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল । এবারে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের রাঙাইপুর গ্রামের হরিবাসর মন্দির থেকে রাতের অন্ধকারে রাধাকৃষ্ণ প্রতিমাসহ কয়েকটি প্রতিমা তুলে নিয়ে গিয়ে ভাঙচুর করে সর্ষের খেতে ফেলে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে । সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাঙচুর প্রতিমার ভিডিও রেকর্ডকারী স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । রাজ্যে বারবার এই ঘটনা ঘটার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রশাসনের “উদাসীনতা”কে তিনি দায়ি করেছেন ।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেছে, “এটা রাঙাইপুর গ্রামের হরিবাসর মন্দির । গতকাল রাতে আমাদের এখান থেকে পাঁচটা প্রতিমা চুরি হয়েছে। একটা রাধাকৃষ্ণ, দুইটা গৌড়নিতাই এবং একটা বুড়িমা । আজ ভোর বেলায় মহিলারা যখন পুজো করতে আসে তখন জানতে পারি । তারপর আমরা খুঁজতে লাগি । এখান থেকে ২০০ মিটার দূরে একটা বাগানের মধ্যে প্রতিমা গুলো ভেঙ্গেছিল । এটা আমাদের হরিশচন্দ্রপুর থানা, রাঙ্গাইপুর গ্রাম,মালদা জেলা৷’ ভিডিওতে ভাঙচুর করা প্রতিমা দেখিয়ে আর একজনকে বলতে শোনা যায়,’এই হল রাধা কৃষ্ণমূর্তি । ভাঙতে ভাঙতে এনে শর্ষের ক্ষেতের আলে ফেলেছে । এই যে সমস্ত খন্ডিত প্রতিমার চিত্র ।’ তিনি ভাঙচুর করা মূর্তি গুলির দিকে মোবাইল ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান ।
শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের অপশাসনে হিন্দুদের মন্দির ও হিন্দু দেবদেবীদের উপর বার বার আক্রমণ করা হচ্ছে।গতকাল রাত্রে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের রাঙাইপুর গ্রামের হরিবাসর মন্দির থেকে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ও গৌর নিতাই সহ পাঁচটি মূর্তি কেউ বা কারা খণ্ড খণ্ড করে প্রায় ২০০ মিটার দুরে একটি আমবাগানে গিয়ে ফেলে। সকালে গ্রামের মানুষ পুজো করতে এলে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।’
তিনি আরো লিখেছেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের এই ধরনের ঘটনায় উদাসীনতা এবং এমন ঘটনায় দোষীদের খুঁজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ার কারণে হিন্দুদের আস্থার উপর আঘাতের মত ঘটনা দিন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। ২০২৬ এর বিধানসভায় হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর জবাব দেবে, কারণ হিন্দুরা জানে পুনরায় এই সরকার ক্ষমতায় আসলে তাদের অবস্থা বাংলাদেশের হিন্দুদের মতো হবে।’ যদি ওই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তা জানাননি বিরোধী দলনেতা । ঘটনার বিষয়ে পুলিশের মতামত পাওয়া যায়নি ।।
