এইদিন ওয়েবডেস্ক,সিলেট,২২ ফেব্রুয়ারী : গত সপ্তাহের মঙ্গলবার বাংলাদেশের সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুলিকান্দি গ্রামের পুষ্পা রানী বিশ্বাস নামে এক কলেজ ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যান । যেকারণে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয় । নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা মঙ্গল চন্দ্র দাস একটি অপহরণের মামলাও রজু করেন । ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানায় । গতকাল নিখোঁজ তরুনী নিজেই বাড়ি ফিরে এসেছেন এবং স্বজাতীয় মেয়েদের পরামর্শ দিয়েছেন : “আবেগের বশে আমার মত কেউ ভুল করবেন না” ।
কিন্তু জানা যাচ্ছে যে পুষ্পা রানী বিশ্বাসের বাবা মঙ্গল চন্দ্র দাস অপহরণের মামলা দায়ের করলেও ঘটনাটি ছিল প্রেম ঘটিত । আসলে মঙ্গলবাবুর মেয়ে স্বইচ্ছায় ভিন ধর্মের প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছিলেন সংসার করার জন্য । ঘটনার বিবরণে জানা গেছে যে মহম্মদ তুহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পুষ্পা রানী বিশ্বাসের । গত মঙ্গলবার কলেজ যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন পুষ্পা রানী । তারপর প্রেমিকের হাত ধরে তিনি পালিয়ে যান ।
মঙ্গল চন্দ্র দাসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মহম্মদ তুহিনের বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে । তারপর গতকাল পুষ্পা রানী বিশ্বাস তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসে । যদিও তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে নিকাহ করেছিলেন কিনা জানা যায়নি । পাশাপাশি এই ক’দিন নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ কেন তার সিদ্ধান্ত বদল হল, সেটার বিষয়েও প্রকাশ্যে কিছু জানাননি ওই তরুনী ।
এদিকে মেয়ের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন মঙ্গল চন্দ্র দাস। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুষ্পা বর্তমানে সুস্থ, নিরাপদ ও ভালো আছেন।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুষ্পা রানী নিজ ভুল উপলব্ধি করে নিজ সম্প্রদায়ের মেয়েদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন-কেউ যেন আবেগের বশে বা না বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়। পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, পুষ্পা নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। এদিকে এলাকাবাসীও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে। কিন্তু তরুনীর সিদ্ধান্ত বদলের নেপথ্যে সঠিক কারন এখনো জানা যায়নি ।
এদিকে এই ঘটনাকে “লাভ জিহাদ” হিসাবে দেখছে সেদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ । উল্লেখ্য, মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে “লাভ মুজাহিদ” নামে একটি শব্দবন্ধ বহুল প্রচলিত ছিল । ‘মুজাহিদ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ সংগ্রামী, যোদ্ধা বা জিহাদকারী । আর এই ‘মুজাহিদ’দের নিশানায় রয়েছে মূলত ধনী পরিবারের হিন্দু মেয়েরা, এমনই দাবি করা হচ্ছে । সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুলিকান্দি গ্রামের পুষ্পা রানী বিশ্বাস এই চক্র থেকে আপাতত বেরিয়ে এলেও বহু মেয়ে এই জিহাদের জালে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে ।।

