এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০২ এপ্রিল : এসআইআর -এ (SIR) নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় দাঁড়িয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তিনি বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের মায়েরা এত শান্ত হলেন কী করে হবে! আপনাদের এত নাম কাটছে ভোটার তালিকা থেকে।’ আর তাঁর এহেন মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘অশান্ত’ হয়ে উঠল পাশের মালদা জেলা । কালিয়াচক-২ (Kaliachak) বিডিও অফিসে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রেখে দেওয়া হল ৩ মহিলাসহ ৭ বিচারককে । তাৎপর্যপূর্ণভাবে সামনে থেকে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিলেন এসআইআর-এ বাদ পড়া মহিলারাই। শেষে রাত বারোটা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য । তিনি এই ঘটনা নিয়ে এক্স-এ লিখেছেন,”পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন ঘটনাপ্রবাহ।কালিয়াচক-২ এর বিডিও কার্যালয় অবরুদ্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীরা এনএইচ-১২ অবরোধ করায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ভেতরে তিনজন মহিলাসহ সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আটকা পড়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া এক বার্তা এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে :
কালিয়াচক-২ এর বিডিও কার্যালয়ের ভেতরে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা শারীরিকভাবে আটকা পড়েছিলেন, যা একটি বিশাল জনতা ঘিরে ফেলেছিল। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীরা বাইরের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল বলে বর্ণনা করেছেন। শুধু কার্যালয়ের বেরোনোর পথই বন্ধ ছিল না, সমস্ত পথে একাধিক সড়ক অবরোধের খবরও পাওয়া গেছে, যা যেকোনো চলাচলকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছিল।
জেলা জজের নির্দেশ মেনে কর্মকর্তারা ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে ছিলেন এবং একক চলাচল এড়িয়ে চলছিলেন। তবে, পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজন ছিল। সমস্ত কর্মকর্তাদের নিরাপদ উদ্ধার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। এভাবে আইনশৃঙ্খলার পতন হতে দেওয়া যায় না।” অবশ্য তিনি “আপডেট”-এ জানিয়েছেন, “সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ আবাসস্থলের পথে রয়েছেন। অবরোধ অব্যাহত আছে।”
জানা গেছে,বুধবার সকাল থেকেই মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর সহ একাধিক জায়গায় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয় । সন্ধ্যা গড়িয়ে যত রাত হয়েছে, ততই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে । বিক্ষোভ চলছিল কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের বাইরেও। সেখানেই এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত ছিলেন সাত বিচারক। কাজ শেষে তাঁরা বেরোতে গেলে আটকে দেয় নাম বাদ যাওয়া লোকজন । বন্ধ করে দেওয়া হয় বিডিও অফিসের গেট। বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাতজন বিচারককে মালদার কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রেখে দেওয়া হয় । বিডিও অফিসের সামনে ১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন বিক্ষোভকারীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।এই ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্থা হতে হয় কয়কজন সংবাদমাধ্যমের কর্মী সহ গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ৷
বিচারকরা যোগাযোগ শুরু করেন কমিশনের সঙ্গে। কিন্তু সেই অর্থে সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। রাত ১১টার পর সংবাদমাধ্যমে হইচই শুরু হলে টনক নড়ে প্রশাসন ও কমিশনের। বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন মালদহের পুলিশ সুপার। এদিকে, রাতেই এই খবর কমিশনের কাছে পৌঁছাতেই মালদহের জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে খবর। অবশেষে রাত ১২ টার পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।।
