এইদিন ওয়েবডেস্ক,তেহেরান,২২ ফেব্রুয়ারী : গণ বিক্ষোভের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইরানে। জানুয়ারিতে সরকারি বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহতের ৪০দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে শনিবার এই বিক্ষোভ হয়। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ইরানের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ ।
দেশব্যাপী বিক্ষোভে নিহত বিক্ষোভকারীদের ৪০তম স্মরণসভার মধ্যে আজ রবিবার ইরানের শিল্পকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আয়াতুল্লাহ আলি খোমিনির নেতৃত্বাধীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি সমাবেশ করেছে। পাশাপাশি খাজেহ নাসির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রবিবার ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির প্রতি সমর্থন জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিউজলেটার শো দ্বারা শেয়ার করা ভিডিওগুলিতে বিক্ষোভের দৃশ্য উঠে আসছে ।
এদিকে ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্পেনের বার্সেলোনা শহরের ইরানি অভিবাসীরা।
ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইরানের ভেতরের বিক্ষোভের বেশ কিছু ভিডিও সামনে এসেছে। এরমধ্যে একটি ভিডিও তেহরানের আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। সেই সঙ্গে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পেহলভিকে নতুন শাসক হিসাবে বেছে নেওয়ারও ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে পশ্চিমা দাবির প্রমাণ চেয়েছে ইরান। তেহরানের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আপত্তি থাকলে শনিবার সঠিক তথ্য সরবরাহের দাবি করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাগচি। এসময় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে হতাহত নিরাপত্তাবাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার জন্য বিদেশী শক্তিকেই দায়ি করে আসছে তেহরান।
ইরানে নতুন করে এই বিক্ষোভ হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি, উল্টোদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও একজন বরিষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন,ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরোক্ষ আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি এবং প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, তবে মার্চের প্রথম দিকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে । কর্মকর্তাটি বলেছেন যে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ “গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা” করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে তার উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (HEU) মজুদের কিছু অংশ রপ্তানি করা, এর বিশুদ্ধতার মাত্রা হ্রাস করা এবং একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করা।
তবে, কর্মকর্তাটি জোর দিয়ে বলেছেন যে পারমাণবিক অ-প্রসারণ চুক্তি (NPT) এর কাঠামোর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার যেকোনো চুক্তিতে “স্বীকৃত” হতে হবে। “নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি এবং প্রক্রিয়া নিয়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন,” কর্মকর্তাটি নির্দিষ্ট ব্যবধানগুলি বিস্তারিত না জানিয়ে বলেন। কর্মকর্তাটি বলেছেন যে মার্চের প্রথম দিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং যদি পার্থক্যগুলি সংকুচিত করা যায় তবে “একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে”।
এদিকে আলি খোমিনি ফের দমন পীড়ন শুরু করেছে৷ একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রবিবার মাশহাদের ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে খোমিনির সন্ত্রাসী বাসিজ বাহিনী আক্রমণ করেছে ।।
