এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৯ জানুয়ারী : আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারী, ২০২৬) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এর মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। কলকাতায় আই-প্যাক অফিস এবং এর প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির অভিযানের পর, আটজন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ মহুয়া মৈত্র এবং অন্যান্য সাংসদদের চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তুলে আটক করে।
বিক্ষোভে মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ এবং ডঃ শর্মিলা সরকার উপস্থিত ছিলেন। সাংসদরা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তৃণমূল সাংসদদের আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।
বিতর্কের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী, ২০২৬) যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কয়লা পাচার মামলায় আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সংগঠনের অফিসে অভিযান চালায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করার অভিযোগ তোলেন। ইডি পালটা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কয়লা পাচার দুর্নীতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ডিস্ক ও প্রচুর ফাইল “ছিনতাইয়ের” অভিযোগ তুলেছে ।
এদিকে দলীয় সাংসদদের চ্যাং-দোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি । তিনি এক্স-এ লিখেছেন,’আমাদের সংসদ সদস্যদের সাথে যে লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয় – এটি ইউনিফর্ম পরা অহংকার। এটি গণতন্ত্র, বিজেপির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সুবিধা বা আরামের উপর গণতন্ত্র কাজ করে না। যখন বিজেপি নেতারা প্রতিবাদ করেন, তখন তারা লাল গালিচা এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আশা করেন। যখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের আওয়াজ তোলেন, তখন তাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, আটক করা হয় এবং অপমান করা হয়। এই দ্বৈত মান বিজেপির গণতন্ত্রের ধারণাকে প্রকাশ করে – ভিন্নমত নয়, আনুগত্য।
এটা স্পষ্ট করে বলা যাক: সম্মান পারস্পরিক। আপনি আমাদের সম্মান করেন, আমরা আপনাকে সম্মান করি। আপনি আমাদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যান, এবং আমরা আপনাকে সহনশীলতা, ভিন্নমত এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সাংবিধানিক ধারণায় ফিরিয়ে আনব। এটি আমাদের ভারত। আমরা অধিকার অনুসারে নাগরিক, চেয়ার, ব্যাজ বা ক্ষমতার পদের করুণার উপর নির্ভরশীল নই। কোনও সরকার, কোনও দল এবং কোনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে গণতন্ত্রে কে মর্যাদার যোগ্য।’।

