এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৪ ফেব্রুয়ারী : পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে জেতানোর অপরাধে গোটা গ্রামকে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করে রাখার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে । এমনই দাবি করে আজ শনিবার বিক্ষোভ দেখালেন মালদা জেলার চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন খানপুর গ্রামের বাসিন্দারা । বিক্ষোভকারীদের দাবি,গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ায় শাসকদলের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাদের । বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা,লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে যাবতীয় সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার তদ্বির করলেও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না । গ্রামের অন্তত ৩০০ টি পরিবারকে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ । অভিযোগ প্রসঙ্গে চাঁচল-২ বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই । কোনও নির্দিষ্ট এলাকাকে এভাবে সরকারি প্রক্লপ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা নয়। তবুও তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ।
বিগত পঞ্চায়েত ভোটে পুরাতন খানপুর গ্রাম থেকে নির্বাচিত হন কংগ্রেসের রাজীব আলি । যদিও চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেয় তৃণমূল । তবে পুরাতন খানপুর গ্রামের বুথের পরাজয় তৃণমূল মেনে নিতে পারেনি । যার ফলে ওই বুথের তিন শতাধিক পরিবারকে তৃণমূলের রোষানলে পড়তে হয় বলে অভিযোগ । আজ বিক্ষোভে সামিল হওয়া সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ মহম্মদ সিরাজুদ্দিন জানান,৬ বার আবেদন করেও তাঁর বার্ধক্য ভাতা জোটেনি । তিনি দুয়ারে সরকার থেকে শুরু করে ব্লক অফিস পর্যন্ত বারবার ছুটে গেছেন,কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি । কোহিনুর খাতুন ও নিনোনি খাতুনদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অপরাধে তাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে । কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন,বিধবা ভাতা এবং সরকারি আবাস যোজনার জন্য মাসের পর মাস পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে দুয়ারে সরকার শিবিরে ছুটে গেছেন৷ কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারনে তাদের ওই সমস্ত সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে ।
একই অভিযোগ করেছেন পুরাতন খানপুর গ্রামের কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য রাজীব আলিও । তিনি বলেছেন,’পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের প্রার্থীকে নির্বাচিত করায় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে পুরাতন খানপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ।’ যদিও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র আশিস কুন্ডু । তার দাবি,’নিশ্চয় আবেদনপত্রে দেওয়া নথিতে কিছু সমস্যার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে । গ্রামবাসীরা সঠিক নথিপত্র দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন’ করল নিশ্চয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।’ তিনি এও বলেন,’তৃণমূল রাজনৈতিক রঙ দেখে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেয় না । কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করছেন৷’ তবে একসাথে গোটা গ্রাম জুড়ে প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীদের নথিতে ভুলের বিষয়ে তৃণমূল মুখপাত্রের দাবিকে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না ।।

