শ্যামসুন্দর ঘোষ,নদীয়া,০৬ এপ্রিল : চলতি মাসের ২৩ ও ২৯ তারিখে এরাজ্যের বিধানসভার ভোট হতে চলেছে । পরিবর্তনের পরিবর্তন নাকি তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন কি নিয়ে চলছে জোর চর্চা ৷ তবে পাকিস্তানের দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি আর মুসলিম ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রাজ্যের শাসকদলকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে । সব থেকে মাথাব্যথার কারণ হয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ৷ প্রায় এক কোটি নাম বাদ চলে গেছে এবারে ভোটার তালিকায় । যে কারণে বিজেপি আশাবাদী যে এবারে তারা অবধারিতভাবে এরাজ্যের শাসন ক্ষমতায় আসতে চলেছে । আজ নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে ফের একবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছেন যে এবারে বিজেপি অন্তত ১৭৭ টি আসন নিয়ে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় আসতে চলেছে ।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, ‘১৬ তে ৩৷ ২১ শে ৭৭৷ এবারে ১৭৭৷ এর নিচে নামবে না৷ এটা আমার নিজের পার্সোনাল অবজারভেশন৷ এটা আরো বাড়তে পারে৷ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সেদিন বলে গেছেন যে আমরা ১৭০ এর নিচে নামবো না । উনি বড় নেতা, ওনার অভিজ্ঞতা আমার থেকে অনেক বেশি৷ সব মিলিয়ে মেজরিটির থেকেও ভালো সংখ্যায় এবারে বিজেপি নেবে ।’
নদীয়া জেলায় বিজেপির সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’নদীয়া জেলায় একটা আধটা সিটে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হুমায়ুন কবির লড়বে নাকি তৃণমূল লড়বে আমি জানিনা৷ বাকি সব জায়গায় এবার এই বিজেপি জিতবে । কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, করিমপুরের মত আসনেও বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে ।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভারতীয় জনতা পার্টির জনাধার তৈরি হয়েছে৷ জুলুবাবুকে ১৯৯৮-৯৯ সালেও এখানে জিতিয়েছে ৷ এই জায়গাটাতে আমাদের অমৃতা রায় মাত্র ৫৪ হাজার ভোটে হেরেছিলেন৷ তখন এসআইআর হয়নি । কিন্তু এখন এসআইআর-এ এখানেও হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমের নাম বাদ গেছে । ৭-৮ দফা ভোটের সুযোগ নিয়ে যে মৃত,ভোটার অবৈধ ভোটারদের তৃণমূল ছাপ্পা মারতো, এবারে সেই সুযোগ পাবে না ।’
আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন, ‘তাই আমার বিশ্বাস যে ২৯ তারিখে দ্বিতীয় দফা এখানে ভোট হবে, আর এই জেলায় গতবারের থেকে অনেক সংখ্যায় জিতবে বিজেপি । গোটা নদীয়া জেলা গেরুয়াময় হয়ে যাবে৷ মহাপ্রভুর পূণ্যভূমিতে সনাতনী হিন্দুরা এবারে বিজেপিকে ভোট দেবে । অন্যদিকে রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরা বুঝে গেছেন যে তৃণমূল তাদের তেজপাতার মত ব্যবহার করেছে । আর তামান্নার ঘটনার পরে অনেক মুসলিমরা বুঝে গেছেন যে তৃণমূলের হাতে কোন সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত নয় । তাই এবারে ব্যাপক ভোট হবে এবং আমরা জিতব ।’ শুভেন্দু অধিকারী আরো জানান যে যারা হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদের পক্ষে তারা ছাড়া প্রতিটা রাষ্ট্রবাদী মুসলিম এবারে বিজেপিতে ভোট দেবে ।।
