এইদিন ওয়েবডেস্ক,নদীয়া,১৬ জানুয়ারী : সদ্যজাত জীবিত শিশুকন্যাকে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ে হাইব্রিড মাগুর মাছের চাষ করা পুকুরের জলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে গেল বাবা-মা । যদিও পুকুরের জলে কিছু একটা পরার আওয়াজ পেয়ে ছুটে গিয়ে পুকুরের জল থেকে প্যাকেটটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা । তারা প্যাকেটের মুখ খুলতেই হতবাক হয়ে যান । স্থানীয়রা দেখেন যে প্যাকেটের ভিতরে রয়েছে নাড়ি না কাটা অবস্থায় এক জীবিত শিশুকন্যা । এরপর তারা পুলিশকে খবর দিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন । আজ শুক্রবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া ফাঁড়ির পরেশনাথপুর দাসপাড়া এলাকায়।স্থানীয়দের অনুমান, শিশুটিকে মেরে কোনো প্রমান না রাখার জন্যই পরিকল্পিতভাবে হাইব্রিড মাগুর মাছের চাষ করা পুকুরে ফেলা হয়েছিল যাতে ওই হিংস্র মাছে শিশুটিকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে । ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ।
জানা গেছে,ফুলিয়া কৃষাণ মান্ডির পাশেই একটা পুকুরে স্থানীয় এক মৎস্যচাষি হাইব্রিড মাগুর মাছের চাষ করেছেন । পুকুরের আশপাশে রয়েছে জনবসতি । পুকুর পাড় দিয়েই তাদের যাতায়াতের রাস্তা । স্থানীয় মহিলা রানী বিশ্বাসের কথায়,’আজ সকাল সাড়ে ৯ টা নাগাদ পুকুরের জলে কিছু একটা ভারি বস্তু পরার শব্দ হয় ৷ সেই শব্দ কয়েকজনের কানে গেলে তারা সঙ্গে সঙ্গে পুকুর পাড়ে ছুটে যান । তখন তারা পলিথিনের একটা বড় প্যাকেটের মধ্যে কিছু একটা প্রাণীকে নাড়াচাড়া করতে দেখে । সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটটা জল থেকে তোলা হয় । এরপর পাড়ে এনে প্যাকেটের মুখ খুলতেই নাড়ি না কাটা অবস্থায় ওই জীবিত শিশুকন্যাটি দেখতে পাওয়া যায় ।’
জানা যায়,শিশুটি উদ্ধারের পর জীবিত দেখে এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে স্থানীয়রা বিষয়টি ফুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশকে প্রথমে জানায় । এরপর পুলিশের পরামর্শে শিশুকন্যাকে দ্রুত ফুলিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন স্থানীয়রা । কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে রানাঘাট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয় । বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউ-তে রেখে শিশুটির চিকিৎসা চলছে । শিশুটির অবস্থা শঙ্কটজনক বলে জানা গেছে । পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে এক মহিলাকে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে এবং তার পাশে একজন পুরুষকে যেতে দেখেছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা । তাদের কথায়,ওই মহিলা ও পুরুষই এই প্রকার চুড়ান্ত অমানবিক কাজ করেছে । ফুলিয়া কৃষাণ মান্ডির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ওই দম্পতির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা ।
এদিকে এই ঘটনায় শিশুটির বাবা-মায়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রানী বিশ্বাস ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান সুদীপ প্রামানিক । ক্ষিপ্ত রানীদেবী বলেন, ‘শিশুটির বাবা-মা’কে ধরতে পারলে আগে সবাই মিলে পেটাতাম।’সুদীপবাবু বলেন,’এ কেমন বাবা মা? প্রতিপালন করতে পারলে আমাদের বলতে পারত । আমরা কিছু একটা ব্যবস্থা করতাম । কিন্তু শিশুটিকে এভাবে মৃত্যুর জন্য ফেলে দিয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না ।’ তিনি শিশুটির বাবা-মাকে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে ।।

