এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,১৩ ফেব্রুয়ারী : ২৯৯টি আসন বিশিষ্ট বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরফে অংশগ্রহণ করা ৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে জিতেছে মাত্র ৪ জন । তাঁরা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত প্রার্থী৷ বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত ২৭০টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় :
ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী মহম্মদ শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
নিতাই রায় চৌধুরী
মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই হিসেবেও পরিচিত। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মহম্মদ মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭হাজার ১৮ ভোট।
সাচিং প্রু
পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে বিএনপিরধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং এর আগেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রার্থী আবু সাঈদ মহম্মদ সূজা উদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।
দীপেন দেওয়ান
রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মোট ছয়জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চারজন জয়ী হলেও বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি একজন করে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিলেও তাঁরা দুজনই জয় পাননি। খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার -৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ পরাজিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও ১০ সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও ১২ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন।।

