পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),৩১ মার্চ : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে জানায়নি কমিশন। সব নাম নিষ্পত্তি হয়ে গেলেই বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জানা যাবে। এদিকে “ডিলিটেড” হয়ে যাওয়া এবং ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা মানুষ রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছে । আজ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা নিভুজি মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করল স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । তারা কেউ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে নিশানা করছেন । কেউ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দুষছেন । মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একজনের প্রশ্ন হল : “দিদি ভোট বয়কট করল না কেন ?” আর একজন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তুলেছেন : “”আমার কাছে ১৯৩৯ সালের দলিল আছে । মোদী-শাহের আছে?”
আজ সকাল ৯:৩০ টা নাগাদ কালনা নিভুজি মোড়ে শতাধিক লোকজন জড়ো হয় । হাটকালনা অঞ্চলের ওই লোকজন সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের । তাদের কারোর নাম “ডিলিটেড” হয়ে গেছে । কাউকে রাখা হয়েছে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় ।
নিভুতি বাজার উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শরিফ শেখ নামে এক বিক্ষোভকারী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দোষারোপ করেন । তিনি বলেন,”আমার এখন ৩৭ বছর বয়স । আমার আধার কার্ড করতে ৯ বছর সময় লেগেছে । ভোটার লিস্টে আমার মা-বাবা-দাদা-দিদির নাম আছে । কিন্তু আমার নাম নেই । তাহলে আমি কোথা থেকে এসেছি ?” তিনি বলেন,”দিদি আর মোদী জানে না ? দিদি কি করে ভোট ঘোষণার বন্ডে সই করল ? দিদি ভোট বয়কট করতে পারত তো । আর দিদি এখন বলছে, আমরা মুসলিম-হিন্দু চাই না । কিন্তু হিন্দু মুসলিম সবার নাম বাদ গেছে৷ এর জবাব দিদি ও দাদাকে দিতে হবে ।”
নিভুতি বাজারের বাসিন্দা বিক্ষোভকারী জাহাঙ্গীর ঢালিকে চরম ক্ষিপ্ত দেখা গেলো । তিনি বলেন,”আমরা দয়াদাক্ষিণ্য চাই না৷ আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে এসেছি । আমার বাবা-মা চৌদ্দপুরুষ এই দেশে জন্মেছে। ১৯৩৯ সালের দলিল আছে আমার কাছে৷ আছে কারোর কাছে ? মোদির কাছে আছে না অমিত শাহের কাছে আছে ?” তিনি জানান যে তার বাবার নাম থাকলেও তার, তার স্ত্রী এবং তার ছেলেমেয়েদের নাম নাই ভোটার তালিকায় ।
হাটকালনা অঞ্চলের ৯৮ নম্বর বুথের বাসিন্দা মহম্মদ মেহেদি হাসান নামে এক বিক্ষোভকারী যুবক জানান যে তাদের ভুতের ৮৯৬ জন ভোটারের মধ্যে ৬৮ জনের নাম বাদ গেছে। জানান যে তার বাবার মায়ের নাম থাকলেও ছেলেদের নাম ভোটার তালিকায় নেই। তিনি জানেন যে তার বাবার নামের পাসপোর্ট ছিল । তিনি নিজে জন্মসংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন । আর বাদ যাওয়া সমস্ত নাম মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে তিনি জানিয়েছেন ।
জানা গেছে,হাটকালনা অঞ্চলের নাম বাদ যাওয়া বাসিন্দাদের মূলত নামের বানানের হেরফের অথবা নথি সংক্রান্ত সমস্যার কারনে আসন্ন বিধানসভার ভোটে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না । প্রথম সারির বিক্ষোভকারীদের গলায় ঝোলানো ছিল বিভিন্ন বয়ান লেখা পোস্টার । কোনো পোস্টারে লেখা : “আমাদের নাম মুছে দিলে কেন ? এটা কি চক্রান্ত ? নির্বাচন কমিশন জবাব দাও” । কোনো পোস্টারে লেখা : “আমার স্বামী কোথায় গেল ? ভোটার লিস্টে নাম নেই কেন ? নির্বাচন কমিশন জবাব দাও” । সড়ক পথে টায়ার জ্বালিয়ে তারা ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় ।।
