এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ জানুয়ারী : ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চরম আতঙ্কিত । ইতিমধ্যে ৫৮ লাখ নাম বাদ যাওয়া কনফার্ম । এস আই আর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দফায় খসড়া তালিকায় ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ চলছে ৷ তাই ভোটার তালিকা থেকে ঠিক কত সংখ্যক নাম বাদ যাবে তা এখন অনুমান করা যাচ্ছে না ৷ এমতবস্থায় এসআইআর এর প্রবল বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠির পর চিঠি লিখে যাচ্ছেন । গতকাল তিনি ফের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটা চিঠি লিখে “বর্তমান রূপে এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার” জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার সাব-ডিভিশনের মগরাহাট – ১, মগরাহাট – ২ এবং কুলপি ব্লকে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক সি. মুরুগানের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাজ্য পুলিশের ডিজিপি (ইনচার্জ) রাজীব কুমারকে “সংবিধান অথবা সিন্ডিকেট” বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । পাশাপাশি তিনি হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মগরাহাট পূর্ব জেলা পরিষদের তৃণমূলের সদস্যা লিলুফা বিবি লস্করের ভিডিও শেয়ার করেছেন ।
শনিবার মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ৪ পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন৷ আজ রবিবার ফের সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি । মমতা লিখেছেন,’বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে সে সম্পর্কে আমার গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রী জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছি। এই প্রক্রিয়াটি পদ্ধতিগত অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং একটি উদ্বেগজনক অনানুষ্ঠানিকতায় ভুগছে যার সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কোনও স্থান নেই। অসঙ্গত নির্দেশিকা, অবিশ্বস্ত আইটি সিস্টেম, অননুমোদিত ব্যাকএন্ড মুছে ফেলা এবং নাগরিকদের, বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং অভিবাসী কর্মীদের, নির্দিষ্ট কারণ বা পর্যাপ্ত সুবিধা ছাড়াই তলব করার রিপোর্ট, ভোটাধিকার বঞ্চিত এবং বৈষম্যের বৈধ আশঙ্কা তৈরি করে।’
তিনি আরও লিখেছেন,’গণতন্ত্রকে স্বচ্ছতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করতে হবে, অনানুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অখণ্ডতার সাথে আপস করা যাবে না, এবং নাগরিকদের এড়ানো যায় এমন কষ্ট বা অনিশ্চয়তার শিকার করা যাবে না। আমি কমিশনকে অবিলম্বে বর্তমান রূপে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার, এর কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করার এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছি। বাংলার প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আপোষ করা যাবে না এবং আমি তাদের রক্ষা করে যাব।’
অন্যদিকে পর্যবেক্ষক সি. মুরুগানের উপর হামলার ঘটনায় ডিজিপি রাজীব কুমারকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশের চিঠি শেয়ার করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’মিঃ ডিজিপি (ইনচার্জ) রাজীব কুমার, ভারতের নির্বাচন কমিশন আপনাকে এক তীব্র সতর্কবার্তা দিয়ে সতর্ক করেছে এবং ৬ জানুয়ারী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মাগরাহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে পরিচালিত জনতার হামলায় ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক শ্রী সি. মুরুগান (আইএএস) কে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনায় একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রতিবেদন (এটিআর) জমা দিতে বলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্রের অধীনে “আইন-শৃঙ্খলা”র কী লজ্জাজনক প্রদর্শন।’
তিনি লিখেছেন,’নির্বাচন কমিশন এটাকে “গুরুতর ত্রুটি” বলে, আমরা এটাকে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা বলি। কিন্তু এখানেই আসল কথা, মিস্টার ডিজিপি (ইনচার্জ) রাজীব কুমার,যদি আপনার হাত রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে বাঁধা থাকে এবং আপনি কীভাবে এটিআর শুরু করবেন তা নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি। সংযুক্ত ভিডিওগুলি দেখুন, স্পষ্ট ফুটেজ যা মাগরাহাট এবং কুলপিতে সেই উন্মত্ত জনতাকে একত্রিত এবং উসকানি দিতে সাহায্যকারী অপরাধী এবং মূল ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করে।’ সব শেষে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’আপনি কি অবশেষে মেরুদণ্ড সোজা করবেন, সেই এফআইআর দায়ের করবেন এবং এই টিএমসি গুন্ডাদের বিচারের আওতায় আনবেন? বেছে নেওয়ার সময়: সংবিধানের সেবা করবেন নাকি সিন্ডিকেটের সেবা করে যাবেন?’
প্রসঙ্গত,ডিজিপি রাজীব কুমারকে লেখা চিঠিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কর্তৃক জমা দেওয়া ৩০.১২.২০২৫ তারিখের নোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার সাব-ডিভিশনের অধীনে মগরাহাট-১, মগরাহাট-২ এবং কুলপি ব্লকে SIR শুনানি শিবিরে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের পরিদর্শনের সময় ঘটে যাওয়া গুরুতর এবং বিরক্তিকর ঘটনাগুলির উল্লেখ রয়েছে।কমিশন উপরোক্ত প্রতিবেদনগুলি সাবধানতার সাথে পরীক্ষা করে দেখেছে যে, মহকুমা কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে সফর কর্মসূচির আগাম অবহিত করার পরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষককে যথাযথ পুলিশ সুরক্ষা ছাড়াই সংবেদনশীল এলাকাগুলির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এছাড়াও, স্লোগান, জনতা জড়ো হওয়া, অফিসিয়াল কাজে বাধা এবং পর্যবেক্ষকের গাড়ির ক্ষতির ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। বারবার চেষ্টা করার পরেও ২৯.১২.২০২৫ তারিখে ৩০-৪০ জন অজ্ঞাত, উচ্ছৃঙ্খল এবং উত্তেজিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুতর ত্রুটি প্রতিফলিত করে।।

