এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,৩০ মার্চ : দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল দিল্লি সীমান্ত থেকে লস্কর-ই-তৈয়বার কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাব্বির আহমেদ লোনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে আইএসআই-এর নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে ভারতে একটি সন্ত্রাসী মডিউল পরিচালনা করছিল। গত মাসে দিল্লি পুলিশ এই সন্ত্রাসী মডিউলটিকে ভেঙে দেয়। শাব্বির আহমেদ এর আগে ২০০৭ সালে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ২০১৯ সালে জামিন পাওয়ার পর সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। সে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী মডিউলটি গঠন করে, জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাঙ্গন এলাকার বাসিন্দা শাব্বির দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের নজরে ছিল।
শাব্বির আহমেদ লোন জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাঙ্গান এলাকার বাসিন্দা। সে একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূল পরিকল্পনাকারী, যাকে সম্প্রতি দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০৭ সালে, একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার ‘ফিদায়েইন’ মিশন চালানোর অভিযোগে শাব্বির আহমেদকে দিল্লি পুলিশ একটি একে-৪৭ ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার করে। বেশ কয়েক বছর কারাগারে কাটিয়ে ২০১৯ সালে সে মুক্তি পায় । মুক্তি পাওয়ার পরই বাংলাদেশে চলে যায় । যেখানে সে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় করতে শুরু করে। শাব্বির আহমেদ আইএসআই-এর নির্দেশে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিল ।বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানের মদতে ভারতের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল এই লস্কর অপারেটিভ।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে বাংলাদেশে বসে লস্করের ভারতবিরোধী কাজকর্মের নেটওয়ার্ক সামলাচ্ছিল শাব্বির। ভারতের মাটিতে সরাসরি পাকিস্তানের নাম যাতে না জড়ায়, তার জন্য সে বাংলাদেশে বসেই নীল নকশা তৈরি করত। বিশেষ করে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি মডিউলে নাম লেখানোই ছিল শাব্বিরের প্রধান কাজ।
তদন্ত চলাকালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দলটি কলকাতায় পৌঁছায় এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় উমর ফারুক ও বাংলাদেশি রবিল উল ইসলাম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই দিল্লির বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর কথা স্বীকার করে। তদন্তে আরও জানা যায় যে, তারা বাংলাদেশে বসবাসকারী শাব্বির আহমেদ লোনের কাছ থেকে নির্দেশনা পাচ্ছিল।
প্রকৃতপক্ষে, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দিল্লির কাশ্মীর গেট, সুপ্রিম কোর্ট, জনপথ এবং অন্যান্য নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনগুলোর স্তম্ভে দেশবিরোধী ও সন্ত্রাসপন্থী পোস্টার লাগানো হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দলটি একটি তদন্ত শুরু করে। দলটি কলকাতায় পৌঁছে উমর ফারুক এবং বাংলাদেশি নাগরিক রবিল উল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশি নাগরিক মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাহাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিতান, মোহাম্মদ শহীদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বলকে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা শাব্বির আহমেদের নির্দেশে এই পোস্টারগুলো লাগানোর কথা স্বীকার করেছে। কলকাতার মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য জনবহুল স্থানেও একই ধরনের পোস্টার দেখা গেছে।।
