কুকুরের প্রভুভক্তি প্রশ্নাতীত । প্রভুকে রক্ষা করার জন্য মৃত্যুকেও তারা আলিঙ্গন করতে পিছপা হয় না । কিন্তু ওই অবলা প্রাণীদের শরীরের মধ্যে যে মানুষের মত একটা হৃদয় আছে,স্বজন হারানোর ব্যাথায় যে তারাও কাতর হয়, একথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই । হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হলে তাদের হৃদয়ও যে অশ্রুসিক্ত হয়, তা দেখিয়ে দিল বছর দেড়েকের একটা পিটবুল । একটি কুকুরের এমনই অটল আনুগত্য ও ভালোবাসার অনন্য নজির দেখা গেলো হিমাচল প্রদেশের ভরমৌর পাহাড়ে ।
২৬শে জানুয়ারি হিমাচল প্রদেশের ভরমৌর পাহাড়ে তুষারঝড় আঘাত হানার পর, ১৩ বছর বয়সী এক বালকের দেহ পাহারা দিতে দেখা যায় একটি পিটবুল কুকুরকে । কুকুরটি তিন দিন ধরে তার মালিকের পাশে ছিল, শূন্যের নিচে তাপমাত্রার মধ্যেও, খাবার ছাড়া বেঁচে ছিল বিশ্বস্ততার সাথে ছেলেটির দেহ রক্ষা করার সময় । একটি অবলা পশুর ভালোবাসার এই নীরব প্রমাণ সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে ।
হিমাচল প্রদেশের চাম্বার ভরমৌর পাহাড়ে ভারমণি মাতা মন্দিরে দেবীর পূজো দিতে গিয়েছিল বিকাশিত রানা (১৯) এবং তার খুড়তুতো ভাই পীযূষ কুমার (১৩) । দেবীর প্রার্থনা করার পর, তারা পাহাড়ের আরও উপরে উঠে নিখোঁজ হয়ে যায় । তাদের সঙ্গে ছিল পীযূষের আদরের পিটবুল কুকুরটি৷ কিন্তু তারা তুষারঝড়ের পর নিখোঁজ হয়ে যায় । একটি বৃহৎ পরিসরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তিন দিন পর, তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল যখন তাদের দেহ দেখতে পায় তখন তারা দেখে যে পিটবুল কুকুরটি পীযূষের দেহের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং শুন্য ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রায় ঠকঠক করে কাঁপছে । তুষারঝড়, তুষারপাত এবং হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যেও সে তার প্রভুদের ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছিল। উদ্ধারকারী দল দুই কিশোরের মৃতদেহ এবং কুকুর উভয়কেই বিমানে তুলে নিয়ে যায়। কুকুরটির তার প্রভুদের দেহ আগলে রাখার মুহুর্তের ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।।
