এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাঠমান্ডু,২৮ মার্চ : শপথ নিয়েই বামপন্থী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে জেলে পাঠালো নেপালের “জেন জেড” সরকার৷ আজ শনিবার ভোরে (২৮ মার্চ, ২০২৬) নেপালে পুলিশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।ভোরে ভক্তপুরের গুন্ডুর বাড়ি থেকে ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বালেন শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক একদিন পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়, যা পুরো দেশকে হতবাক করে দিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন-জি’ আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় ‘অপরাধমূলক অবহেলার’ জন্য এই গ্রেপ্তার করা হয়, যার ফলে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওলি এবং রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রতিশ্রুতি মানে প্রতিশ্রুতি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা ওলি এবং রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছি। এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।”
শুক্রবারই নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বলেন্দ্র শাহ। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) গত ৫ মার্চের নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ক্ষমতায় এসেই বলেন্দ্র বুঝিয়ে দিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আপসহীন। উভয় নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮১ ও ১৮২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কেপি ওলির গ্রেপ্তারের ঘটনা চীনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, কারণ তাকে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
নেপালের নতুন সরকার শুধু বামপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধেই নয়, তৎকালীন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাফুং, স্বরাষ্ট্র সচিব গোকর্ণ মণি দাওয়াদি এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রধান রাজু আরিয়ালসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের পর প্রশাসন এখন উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতায় রয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুবসমাজে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক সহিংসতা, সংসদ ভবন পুড়িয়ে দেওয়া এবং শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। প্রাক্তন বিচারপতি গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন তার প্রতিবেদনে অলি এবং রমেশ লেখরকে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রতিবেদন অনুসারে, গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন অবহেলামূলক আচরণ করেছে, যার ফলে একটি অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাতে মন্ত্রিসভা প্রতিবেদনটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের পরোয়ানা জারি করা হয় ।।
Author : Eidin Desk.

