বামপন্থী আর তথাকথিত ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষরা ভারতে ‘লাভ জিহাদ’কে বিজেপি,আরএসএস হিন্দুত্ববাদীদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও বিভেদ ছড়ানোর কৌশল বলে আজও অপপ্রচার চালায় । কিন্তু কেরালায় কিভাবে হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করা হত তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে হিন্দি সিনেমা “দ্য কেরালা স্টোরি” । যদিও বামপন্থীদের কথায়,”ওটা প্রোপাগান্ডা ফিল্ম” । কিন্তু এমনই এক সুপরিকল্পিত লাভ জিহাদের শিকার হয়েছিলেন জাতীয় শ্যুটার তারা শাহদেব । যেটা আদালত পর্যন্ত স্বীকার করেছিল। রঞ্জিত কোহলি নামে নিজেকে পরিচয় দিয়ে তারা শাহদেবকে লাভ জিহাদে ফাঁসিয়ে রাকিবুল হাসান তাকে বিয়ে তো করতে সক্ষম হয়, কিন্তু তাকে জোর করেও ধর্মান্তরিত করতে পারেনি ।
একটি সাক্ষাৎকারে তারা বলেছিলেন,’৭ জুলাই বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে একটা হিন্দু বাড়ির মতই দেবদেবীর মূর্তি ছিল । কিন্তু পরের দিন ৮ জুলাই ঘুম থেকে উঠে দেখি দেবদেবীর মুর্তি উধাও হয়ে গেছে । ঘরের সব জায়গায় মক্কা-মদিনার ছবি,আল্লার প্রতীক । মাতাজির লাল দুপাট্টা সরিয়ে সবুজ কাপড়…. তখন ঈদের মরশুম ছিল । আমাকে ইফতারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । অন্তত ৩০ জন মহিলাদের মাঝে আমাকে বসানো হয়েছিল । পরিবেশ খুবই ভয়ানক ছিল…. আমাকে গোমাংস পর্যন্ত খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয় ।”
যদিও বছর দুয়েক আগে তারা শাহদেব লাভ জিহাদ মামলায় দোষী সাব্যস্ত লাভ জিহাদি রাকিবুল হাসান ওরফে রঞ্জিত কোহলিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় সিবিআইয়ের একটি বিশেষ আদালত। রাকিবুলের মা কায়সারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হাইকোর্টের বরখাস্তকৃত রেজিস্ট্রার মুশতাক আহমেদকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় । সকল অভিযুক্তকে ৫০,০০০ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল ।
আসলে,এই মামলাটি ২০১৪ সালে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে প্রকাশ্যে আসে। তারা শাহদেব জাতীয় স্তরের শুটিং প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য হোতওয়ারে অনুশীলন করছিলেন। এই সময় তিনি রকিবুল হাসানের সাথে বন্ধুত্ব করেন,যে নিজেকে রঞ্জিত সিং কোহলি নামেও পরিচয় দেয় । রাঁচির বাসিন্দা শাহদেব অভিযোগ করেন যে কোহলি তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন এবং অবশেষে ২০১৪ সালের আগস্টে তাকে বিয়ে করতে বলেন। এই সময়ে তিনি তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেন।
বিয়ের পরই তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামীর আসল নাম রকিবুল হাসান। তারার হয়রানি শুরু হয়। পরে হাসান এবং তার মা তাকে ধর্মান্তরিত করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন যে যখন তিনি ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানান, তখন তার দিকে একটি কুকুর লিলেয়ে দেয় । কুকুরে কামড়ে ধরে এবং তাকে গোমাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি জিহাদিদের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হন এবং পরে বিষয়টি থানায় পৌঁছায়।

তারা আরও অভিযোগ করেন যে তার বিয়ের পরেও বেশ কয়েকজন মেয়ে হাসানের সাথে দেখা করতে আসতেন। তিনি বলেছিলেন যে কোহলি ওরফে রকিবুল হাসান রাঁচি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে স্থায়ীভাবে একটি ঘর বুক করেছিল, যেখানে তিনি এই মেয়েদের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতেন এবং তাদের বিনোদন দিত ।
মামলাটি প্রথমে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশে, ২০১৫ সালে মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সালে এই মামলায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় । ঘটনাটি লাভ জিহাদ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে একটি বিশেষ সিবিআই আদালত এই মামলায় তিন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে ।
নয় বছর পর, সিবিআই আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করার পর তারা শাহদেব বলেছিলেন, “আমাকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য আমি আদালত এবং সিবিআইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই ন্যায়বিচার কেবল আমার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি মেয়ের আশ্বাস থাকবে যে যে কেউ তাদের সাথে এমন করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।” তারা শাহদেব আরও বলেছিলেন, “এই সিদ্ধান্তের পর, কারও সাথে এইরকম আচরণ করার ভয় থাকবে। যখন আমার লড়াই শুরু হয়েছিল, তখন এটিকে পারিবারিক হিংসা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল নিশ্চিত করা যে এটি অন্য কোনও মেয়ের সাথে না ঘটে। লোকেরা “লাভ জিহাদ” শব্দ ব্যবহার করতে দ্বিধা করছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর, তারা এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসবে ।”
