পারমিতা দত্ত,নদীয়া,১১ জানুয়ারী : আজ রবিবার ভোররাতে নদীয়া জেলার শান্তিপুর রেলবাজার সংলগ্ন দেবনাথ মার্কেটে একটি সোনা রুপোর গহনার দোকান ও পার্শ্ববর্তী একটি হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে । সোনা রুপোর দোকানে বেশ কিছু অলঙ্কার এবং নগদ এক লক্ষ টাকা চুরি হয় । অন্যদিকে হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকান থেকে চুরি যায় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ৷ মার্কেটে লাগানো কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয় । লোপাট করে দেওয়া হয় কিছু সিসিটিভি ক্যামেরাসহ হার্ডডিস্ক৷ খুশির বিষয় হল যে অভিযোগ পাওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই সোনা রুপোর দোকানের চুরির কিনারা করে ফেলে শান্তিপুর৷ তবে চমকপ্রদ বিষয়টি হল ওই দোকান মালিকের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া গহনা ও নগদ টাকা । প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে ব্যাঙ্কে মোটা টাকা ঋণ থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিপুল অঙ্কের বিমার টাকা হাতাতেই চুরির নাটকের চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন খোদ দোকান মালিক । অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লালটু হালদার শান্তিপুর থানায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘দোকান মালিকের ৫০ লাখ টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ আছে । সেই সাথে তার এক কোটি টাকা বীমা করা আছে । প্রাথমিকভাবে যেটা আমরা জানতে পেরেছি যে চুরির ঘটনাটি ওই ঋণ ও বীমার সাথে সম্পর্কিত ।’
জানা গেছে,আজ সকালে শান্তিপুর রেলবাজার আর এন ঠাকুর রোডের দেবনাথ মার্কেটে “অঙ্কিতা গিনি হাউস” নামে একটি সোনার দোকানের কোলাপসিবল গেটের তালা ভাঙ্গা অবস্থায় এবং গ্রিল কাটা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়৷ দোকান মালিক ছেলে অঙ্কন পাল প্রথমে দাবি করেন তাদের দোকান থেকে ৪০০ গ্রাম সোনার গহনা, দেড় কেজি রুপো এবং এক লক্ষ টাকা নগদ চুরি হয়েছে ।
অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর থানার ওসি অনুপম ঢালীর নেতৃত্বে তদন্তে নামে পুলিশ । ছুটে আসেন রানাঘাট পুলিশ জেলার অ্যাডিশনাল এসপি লালটু হালদার । তারা সোনার দোকানের মালিক ক্ষিতিশ পালের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলেন । এদিকে পুলিশ দোকানের ভিতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দোকান মালিককে ঢুকতে এবং আলো জ্বালাতে দেখা যায়। পুলিশ দোকানের মালিককে চেপে ধরতেই তার ৫০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ ও এক কোটি টাকার বীমার কথা জানতে পারে । তখন চুরির গল্পের সমগ্র বিষয়টি পুলিশের সামনে দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যায়। পরে তার বাড়ি থেকে সমস্ত সোনা উদ্ধার করে শান্তিপুর থানার পুলিশ।
তবে হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকানে চুরির ঘটনার এখনো পর্যন্ত কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ । তবে সিসিটিভি ফুটেজে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার । তবে সিদ্ধেশ্বরী কালী মায়ের মন্দিরে চুরির ঘটনায়এখনো পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিতকরণ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি । এদিকে রেলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সনাতন পাল অভিযোগ করেছেন,’বাজারের নিরাপত্তায় তিনজন পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকলেও তাদের সামনেই কার্যত বহিরাগতরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । রাতের অন্ধকারে গলিতে বসে তারা মধ্যপান করে এবং জুয়ো খেলে ।’ বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধের জন্য তিনি দাবি জানান পুলিশের কাছে ।।

