প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৬ ফেব্রুয়ারী : কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা সহ বর্ধমানের রেনেসাঁয় পুলিশের হাতে দু’জনের ধরা পড়ার ঘটনায় জড়িয়ে ছিল বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের নাম।তবুও ফল হলো নিস্ফলা।বর্ধমান আদালত ধৃত দু’জনেরই জামিন মঞ্জুর হেয়ে যায়।তা জানার পরেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশকে কটাক্ষে বিঁধে সৌমিত্র খাঁ বলেন,’জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া উচিত।’ পাল্টা সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জেলা তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন,’আসলে চোরের মায়ের গলা বড়ই হয় ।’
বর্ধমান থানার পুলিশ বুধবার বিকালে রেনেসাঁ এলাকায় একটি চারচাকা গাড়ির পথ আটকায় । ওই গড়িটিতে পুলিশ তল্লাশি চালাতেই পিছনের সিটের তলা থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। এই টাকার উৎস বিষয়ে গাড়িতে থাকা বাঁকুড়ার ওন্দা নিবাসী দুই আরোহী সৌরভ ঘোড়ুই এবং বাপন হাঁসদা কিছু জানাতে না পায়ায় পুলিশ তাদের প্রেপ্তার করে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানান,’জেরায় ধৃত সৌরভ ঘোড়ুইও বাপন হাঁসদা জানিয়েছে,পূর্ব বর্ধমান ও তার লাগোয়া জেলার বালিঘাট থেকে তাঁরা টাকা সংগ্রহ করেছে।হৃদয় পাল নামে এক ব্যক্তি যিনি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁনের পিএ, তিনিই তাঁদেরকে বালিঘাট থেকে টাকা সংগ্রহ করতে পাঠিয়ে ছিলেন । এই দুই ধৃতকে বৃহস্পতিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে ১০দিন পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়ে ছিলেন।যদিও বর্ধমান আদালত দুই ধৃতের জামিন মঞ্জুর করে দিলে রাতেই ধৃতরা ছাড়া পেয়ে যায় ।
এদিকে ধৃতরা জামিনে মুক্তি পেয়ে যেতেই শুরু হয়ে যায় শাসক ও বিরোধীদের তরজা। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন,’আসলে বিজেপি তোলাবাজি করে,আর দোষ চাপায় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে দোষ চাপায়।আমরা চাই প্রশাসন এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক।’ এর পাল্টা জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,’তৃণমূলের দলদাস পুলিশ ঠিক মতো চিত্রনাট্য না সাজিয়েই বিজেপির বদনাম করতে পথে নেমে পড়েছিল। সেটা বুঝতে পেরে আদালত দুই ধৃতেরই জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছে।’ আর পুলিশকে বিঁধে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁন এদিন বলেন,’এই ঘটনা নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ’নোবেল পুরষ্কার’ দেওয়া উচিত। আসলে তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হওয়া পুলিশের চিত্র নাট্য এত দুর্বল ছিল যে কোর্ট দু’জনের জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছে।’।
